||   ফেব্রুয়ারি থেকে ফের ১০ টাকা কেজির চাল      ||   ভাঙ্গায় নকল ধরার কারনে শিক্ষক কে পিটিয়ে আহত      ||   বিজয় দিবসে চার শো নিয়ে দিনাত জাহান মুন্নী      ||   সিলেটে ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য আটক      ||   জিতে ঘুরে দাঁড়াতে চায় জাতীয় পার্টি      ||   মুকসুদপুরে ৪১২ পিচ ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার      ||   রাণীনগরে গভীর নলকূপের মিটার চুরির হিরিক ॥ মুক্তিপণে মিটার ফিরে পাচ্ছে গ্রাহকরা!      ||   ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছে মিয়ানমারের ওয়ার্কিং গ্রুপ      ||   এক ছবিতে পরী-মাহি      ||   ট্রাকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত      ||   নিউ ইয়র্কে বোমা হামলা : অভিবাসন আইন কঠোর চান ট্রাম্প      ||   প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পথচারী নিহত      ||   আবারও ট্রফি হাতে শেষ হাসি মাশরাফির?      ||   দাকোপের দুই জেলে সুন্দরবনে গুলিবিদ্ধ      ||   দাকোপে সিবিজি সদস্যদের খাঁচায় মাছ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন     

ফেব্রুয়ারি থেকে ফের ১০ টাকা কেজির চাল ভাঙ্গায় নকল ধরার কারনে শিক্ষক কে পিটিয়ে আহত বিজয় দিবসে চার শো নিয়ে দিনাত জাহান মুন্নী সিলেটে ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য আটক
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন: নতুন বোতলে পুরনো মদ না তো?
জয়া ফারহানা : ৪/১২/২০১৭- মতভিন্নতা বা মতবৈচিত্র্যে যারা বিশ্বাস করেন না তারাও ভিন্নমতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে মুখে স্বীকার করেন। কিন্তু মুখে স্বীকার করা আর কাজে প্রমাণ করা এক জিনিস নয়। ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিশেষ করে সেই মত যদি হয় ক্ষমতাসীন সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিন্ন, তবে তার পীড়ন যে কতদূর পর্যন্ত হতে পারে, ভিন্নমত পোষণকারী কতদূর পর্যন্ত হেনস্থা হতে পারে তা কেবল ভুক্তভোগীই জানেন। ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এইটুকু বলে বোধহয় ভিন্নমতের গুরুত্ব ঠিকঠাক বোঝানো যায় না। ভিন্নমত বহুমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই শুধু নয়, গণতন্ত্রের অক্সিজেনও। কোনো সমাজই একজাতীয় মতের মানুষ দিয়ে তৈরি হয় না, হতে পারে না, হওয়া উচিতও নয়। মতভিন্নতা কতরকমভাবে প্রকাশিত হতে পারে। মূল বিষয়ে সাদৃশ্য থাকলেও বোধের ভিন্নতা থাকতে পারে। প্রকাশভঙ্গির ভিন্নতা থাকতে পারে। প্যারিসের সমাজ কোনো নাগরিককে সবচেয়ে বেশি সম্মান দেয় শিল্পপ্রতিভার কারণে। যত বড় অর্থশালী হোক, শিল্প প্রতিভা না থাকলে প্যারিসের সমাজে শিল্পীর চেয়ে বেশি সম্মান পাওয়া যায় না। অর্থবানের চেয়ে শিল্পী অধিকতর মূল্যবান প্যারিসের কাছে। জার্মান নাগরিকদের সবচেয়ে মূল্য দেয় জ্ঞানের কারণে। সৃজনী প্রতিভা নয়, মনন প্রতিভার মূল্য সেখানে সবচেয়ে বেশি। প্রাচীন ভারতবর্ষে সবচেয়ে সম্মানী ছিল সন্ন্যাসীরা, এখন অবশ্য ভারতবর্ষ বদলেছে। চীনে সবচেয়ে মূল্যবান বিবেচিত হতেন সাধুরা। কী করে ধন সম্পদের প্রতি ঔদাসীন্য দেখানো যায় তার দীক্ষা দিতেন প্রাচীন চীনের সাধুরা। খারাপ ব্যবহারের বদলে ভালো ব্যবহার, অসহিষ্ণুর প্রতি সহনশীল হওয়া ছিল কনফুসিয়াসের নীতি। এখনো চীনে কনফুসিয়াসের অনুসারীর সংখ্যা অন্য ধর্মপন্থিদের চেয়ে বেশি। কিন্তু কনফুসিয়াসের নীতি বিসর্জন দিয়েছে চীন। অন্যদিকে প্রতিবেশীর কাছে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পথই বন্ধ করে দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন সবার আয় রাষ্ট্র কর্তৃক বেঁধে দিয়ে এবং ব্যক্তি সম্পদ বিলুপ্তির মাধ্যমে। সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন আর নেই। মতে যেমন ভিন্নতা থাকতে পারে, মতের মূল্যায়নেও থাকতে পারে ভিন্নতা।কিন্তু আমাদের দেশে মতভিন্নতা মানে বিশেষ করে তা যদি হয় ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে ভিন্নতা তাহলে ভিন্নমত পোষণকারীর প্রতি সন্দেহের দৃষ্টি এত চূড়ান্ত নেতিবাচক হয় যে, যেন সেই ভিন্নমত পোষণকারীর একমাত্র উদ্দেশ্য সরকারকে ফেলে দেয়া। একদিন আমি এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হব প্রবন্ধে আহমদ ছফা লিখেছিলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হলে পাঁচ বছর অন্তর কিছু লেখককে পেনশন দেব যেন তারা আর নতুন কোনো লেখা না লেখেন। খুব সুখের অনুভূতি নিয়ে নিশ্চয়ই তিনি একথা লেখেননি। দুঃখে পড়েই লিখেছিলেন। তার পর পরই লিখছেন, আমাদের কোনো কোনো লেখকের তোষামোদীর পদ্ধতিটা এত স্থূল যে, যাদের তারা তোষামোদী করেন তারাও অনেক সময় এসব লেখা পড়ে পীড়িত ও বিব্রত বোধ করেন। এরা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে দালালির মাধ্যমে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। বুদ্ধিবৃত্তিক তৃষ্ণার টান থেকে নয় কেবল ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং পদ-পদবির সুবিধাপ্রাপ্তিই যদি হয় উদ্দেশ্য তাহলে লেখার দরকার কী, নিয়মিত মাসোহারা নিলেই হয়। বুদ্ধিজীবীদের তোষামোদী কেবল দোষণীয় নয়, নীরবতাও দোষণীয়। শুধু দোষণীয় নয়, ক্ষমাহীন অপরাধ। রবার্ট ক্লাইভ পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভ করার পর লিখেছিলেন যত লোক চারদিক ঘিরে দাঁড়িয়ে পলাশীতে নবাব সিরাজদৌলার পরাজয় দেখছিল তারা যদি দাঁড়িয়ে না থেকে খালি একটি করে ঢিলও ছুড়ত তাহলেও কোম্পানির সৈন্যদলের অস্তিত্ব থাকত না। বুদ্ধিজীবীদের নীরবতাও ওই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিরাজদ্দৌলার পরাজয় দৃশ্য দেখার মতো অপরাধ। নিষ্ক্রিয় থেকে পরাজয় দৃশ্য দেখলে যেমন মীর জাফরের মতো একজন বিশ্বাসঘাতকের উত্থান ঘটে তেমন যাদের প্রতিবাদ করার কথা তারা প্রতিবাদ না করলেও শাসন ও রাষ্ট্র ক্ষমতা মীর জাফরের মতো কোন বিদেশি শাসকের পদলেহনকারীর হাতে চলে যেতে পারে। ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় কাছের লোক দিয়েই ষড়যন্ত্র করায়। দূরের কারো পক্ষে ষড়যন্ত্র করে সফল হওয়া সম্ভব নয়, ইতিহাসে তার প্রমাণ বারবার মিলেছে। যারা কোনো বিশেষ দলের লেজুড়বৃত্তি করে না, লেজুড়বৃত্তিকে ঘৃণা করে, অন্য রাষ্ট্রের দাদাগিরিকে তোয়াজ করে না, ঢালাওভাবে তাদের সরকারবিরোধী বলে মন্তব্য করা কোনো বিবেচনাপ্রসূত কাজ হতে পারে না।নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কখনো কখনো সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার জন্য আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে, বিরোধী রাজনীতি ও মত দমনে ফ্যাসিস্টের আচরণ করতে পারে, গণতান্ত্রিক মোড়কে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা প্রকাশ পেতে পারে, এমন নিরবচ্ছিন্ন অধিকারীর সামনে মন্ত্রিসভার কেউ সামান্য মতভিন্নতা প্রকাশ না করতে পারেন, এমন একনায়কের কোনো পরামর্শক নাও থাকতে পারে কারণ ক্ষমতার কাছাকাছি সবাকেই তখন ওই একনায়কের প্রতি চূড়ান্ত আস্থাশীলতা দেখাতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বাধীন চিন্তা-কল্পনা, নিরপেক্ষ গবেষণা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। এমন মনোভাব তৈরি হয় যেন ক্ষমতার নায়ক কোনো ভুল করতে পারেন না। ঠিক এ সময় বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের লাঠি ধার না করে কাকতাড়ুয়ার ভূমিকা পালন না করে সত্য কথা বলা, নিরপেক্ষ থাকা। দরিদ্র জনগণের শ্রম ও ঘামের টাকা অন্যায় পথে কুক্ষিগত করে বিদেশে পাচার করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি আমদানির সুবাদে বিদেশি কোম্পানির কমিশন খেয়ে রদ্দিমার্কা এবং প্রায় অচল যন্ত্রপাতি আমদানি করে টাকার পাহাড় বানিয়ে যারা বিদেশে সেকেন্ড হোম প্রকল্পে টাকা বিনিয়োগ করেছেন তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগকারী একনায়করা তাদের অনৈতিক ক্ষমতা ভোগকে জায়েজ করার জন্য সবসময় এমন একদল লোককে খোঁজেন সর্বসাধারণের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা আছে। আফসোস এই একনায়কদের পাশে তোষামোদী এবং চাটুকরদের অভাব কখনো হয় না। ইয়াহিয়া খানের মতো স্বৈরশাসকেরও হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার ব্ল্যাক ডগের আসরে হাজির হয়ে আসর তাতিয়ে মাতিয়ে রাখতেন। শক্তি, ক্ষমতা এবং দম্ভের পরিণতি কখনো ভালো হয় না। আইয়ুব খান, আব্দুল মোনেম খান, নাজিমুদ্দিন, নুরুল আমিন, ইয়াহিয়া খান সবার পরিণতিই আমরা জানি।

কলাম
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন: নতুন বোতলে পুরনো মদ না তো?

 
 
All rights reserved. Copyright © 2017 ONLINE GBANGLANEWS || Developed by : JM IT SOLUTION
জি বাংলা নিউজ পোর্টালের কোন সংবাদ,ছবি, কোন তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া কপি বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।