||   উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকারী বাবাকে কুপিয়ে হত্যার ৩ মাস পর মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার      ||   গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফটবলের ফাইনাল জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন টুঙ্গিপাড়া ও মুকসুদপুর      ||   টেকনাফের চেয়ারম্যান বাড়ী থেকে ১৫ রোহিঙ্গা উদ্ধার      ||   রোহিঙ্গা সংকট দ্বন্দ্বশিকলে বন্দি কূটনীতি      ||    রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করুন      ||   এমপি রানার জামিন স্থগিত      ||   গোপালগঞ্জে জাতীয় স্যানিটেশন মাসের র‌্যালী ও আলোচনা সভা      ||   গোপালগঞ্জে আমন ধানের উপর মাঠ দিবস      ||   টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ      ||   তিন মাস পর ফিরছেন খালেদা      ||   রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে আছে রাশিয়া ও চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী      ||   দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে: সিইসি      ||   বিপুল পরিমান কারেন্ট জাল ও মা ইলিশ জব্দ, আটক ৫      ||   নিখোঁজের একদিন পর ড্রেনে মিললো যুবকের লাশ      ||   মুকসুদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু     

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকারী বাবাকে কুপিয়ে হত্যার ৩ মাস পর মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফটবলের ফাইনাল জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন টুঙ্গিপাড়া ও মুকসুদপুর টেকনাফের চেয়ারম্যান বাড়ী থেকে ১৫ রোহিঙ্গা উদ্ধার রোহিঙ্গা সংকট দ্বন্দ্বশিকলে বন্দি কূটনীতি
শব্দদূষণ: বস্ত্র শ্রমিকদের প্রতি নজর দিন
জিবাংলানিউজ ডেস্ক: ৭/১০/২০১৭- বস্ত্র খাত দেশীয় উন্নয়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই খাতটি দেশের জন্য শুধু বৈদেশিক মুদ্রাই আনছে না বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করছে। চীনের পর বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে দেশ থেকে সর্বাধিক তৈরিকৃত পোশাক রফতানি করা হয়। সারাবিশ্বের পোশাক বাজারে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে খুব শিগগিরই চীনকে টপকে যেতে পারবে বাংলাদেশ। এই খাতটি এমন উত্তরোত্তর উন্নয়নের পেছনে যাদের নিরলস অবদান রয়েছে তারা হলেন বস্ত্র কারখানার শ্রমিক। দিনের অধিকাংশ সময়ই তাদের কেটে যায় বস্ত্র কারখানার অভ্যন্তরে। এসব শ্রমিকের ব্যক্তিগত স্বার্থ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রক্ষা করা হয় না। বস্ত্র কারখানায় যারা কাজ করেন তারা একটি বদ্ধ জায়গায় অনেক যন্ত্রপাতির মধ্যে সময় কাটান। দীর্ঘদিন এভাবে কাজ করায় অনেকেই ইতোমধ্যে শ্রবণশক্তি খুইয়েছেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসে সরকারি সংস্থা কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে এমন প্রমাণই পেয়েছেন। বেশ কয়েকটি বস্ত্র কারখানায় শ্রবণশক্তি পরীক্ষার যন্ত্র ব্যবহার করে কমপক্ষে ১০ শতাংশ শ্রমিকের শ্রবণশক্তি হ্রাসের তথ্য পান তারা। ৬ অক্টোবর সহযোগী একটি দৈনিকে এ রকম তথ্য তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মানুষের জন্য শব্দের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ৯০ ডেসিবল। ৯০ থেকে ১৪০ ডেসিবল শব্দের মধ্যে কেউ দৈনিক ৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে তার শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি অনেক বেশি। ৮৫ ডেসিবল মাত্রার শব্দে দৈনিক ৪ ঘণ্টার বেশি নিয়মিত কাজ করলেও শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে। তবে তা পর্যায়ক্রমে। একটি বস্ত্র কারখানার ডায়িং বিভাগে শব্দের মাত্রা থাকে ৯০ থেকে ৯৫ ডেসিবল। জেনারেটর বিভাগে উৎপন্ন হয় ৯৬ থেকে ১০০ ডেসিবল শব্দ। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে নিটিং বিভাগে শব্দের মাত্রা থাকে সাধারণত ৮৬ ডেসিবল। এছাড়া সুইং ও ফিনিশিং বিভাগে শব্দের মাত্রা যথাক্রমে ৭৬ থেকে ৮২ এবং ৭৭ থেকে ৮৫ ডেসিবল। এ হিসাবে বস্ত্র খাতের ডায়িং ও জেনারেটর বিভাগের শ্রমিকদের মধ্যে শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি যে সবচেয়ে বেশি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে গড় হিসেবে বস্ত্র কারখানার কোনো বিভাগের শব্দ মাত্রাই সহনীয় নয়। আগে অনুমান করা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বস্ত্র শ্রমিকদের শ্রবণশক্তি লোপের বিষয়টি এখন স্পষ্ট। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ নয়। কারণ বড় কিছু কারখানায় শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোয় তা নেই। আবার উপকরণ থাকলেও বেশিরভাগ কারখানায় তা ব্যবহার হয় না। যন্ত্র চললে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে শব্দ উৎপন্ন হবে। তবে এর কারণে যাতে শ্রবণশক্তি হ্রাস না পায়, সেজন্য প্রয়োজন যথাযথ সুরক্ষা উপকরণের ব্যবহার। শব্দ বা অন্যান্য দূষণের মাত্রা উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট উপকরণ ব্যবহারের দিকনির্দেশনাও রয়েছে আইনে। কিন্তু বাংলাদেশের কারখানায় এ চর্চা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি এখনো। যে কারণে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের ৩০ শতাংশ কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকের ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টি আমলেই নিচ্ছে না। শিল্পে কর্মক্ষেত্রজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ডিআইএফই। সংস্থাটির পরিদর্শকের পরিদর্শন সক্ষমতা বাড়ানো, মালিকদের মানসিকতা পরিবর্তন ও সার্বিক সচেতনতাই এ ধরনের সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহল যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। কারণ এর সঙ্গে ব্যক্তির সুরক্ষার পাশাপাশি দেশীয় স্বার্থও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

সম্পাদকীয়
শব্দদূষণ: বস্ত্র শ্রমিকদের প্রতি নজর দিন

 
 
All rights reserved. Copyright © 2017 ONLINE GBANGLANEWS || Developed by : JM IT SOLUTION
জি বাংলা নিউজ পোর্টালের কোন সংবাদ,ছবি, কোন তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া কপি বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।