শিশু নির্যাতনের অভিযোগে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন মেগান

আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ১০:৫৩:৫৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ১০:৫৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

বাবা থমাস মার্কেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আগে তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য মেগান মার্কেল। চিঠিতে তিনি বাবার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। এ কারণে তাঁর বাবা আর কখনো নাতি-নাতনি আর্চি ও লিলিবেটের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেন মেগান।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ফিলিপাইনে পা কেটে ফেলার অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সী থমাস মার্কেলকে চিঠিটি পাঠানো হয়। বাবা-মেয়ের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই চিঠিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে মেগান স্পষ্ট করে জানান, তিনি আর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন না। তাঁর দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটের সঙ্গেও থমাসের দেখা করার সুযোগ থাকবে না। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

থমাস মার্কেলের ফিলিপাইনের সাবেক বাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের পুলিশও এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে মেগানকে জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে থমাস মার্কেল তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, থমাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করছে দেশটির মানব পাচার ও শিশু যৌন নিপীড়নবিরোধী টাস্কফোর্স। ফিলিপাইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনভিক রেমুলা জানিয়েছেন, দেশটির জাতীয় পুলিশ থমাস মার্কেলের কম্পিউটার জব্দ করেছে। সেটির ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

এদিকে, মেইল অন সানডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থমাস মার্কেল অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন কিংবা শিশু নির্যাতনের ছবি নিজের কাছে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

শনিবার লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৯ সালে থমাস মার্কেলকে ঘিরে একাধিক অভিযোগসংবলিত একটি চিঠি তারা পেয়েছিল। সে সময় চিঠিটি ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্সকে দেওয়া হলেও এর বিষয়বস্তু অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়নি। বিষয়টি কীভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, তা এখন পর্যালোচনা করছে পুলিশ।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেগান নিজেই ওই চিঠির অস্তিত্বের কথা জানান। তিনি বলেন, এতে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে উদ্বেগজনক অভিযোগ ছিল। মেগান লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যেসব শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, তাদের কথা ভেবে আমার মন খারাপ হচ্ছে।’

বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ সীমিত রাখা এবং সন্তানদের সঙ্গে তাঁর দেখা করার সুযোগ না দেওয়ার কারণ মানুষ বুঝতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মেগান।

থমাস মার্কেলের একমাত্র মেয়ে মেগান। তাঁর মা ডোরিয়া র‍্যাগল্যান্ড। কয়েক দফা স্ট্রোকের পর গত বছর থমাস ফিলিপাইনে চলে যান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখানে পা কেটে ফেলার পর আবার হাঁটতে শেখার চেষ্টা করছেন।

দ্য সান জানিয়েছে, মেগানের সৎভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র দাবি করেছেন, ফিলিপাইনে বাবার সাবেক বাসায় তিনি বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও খুঁজে পেয়েছিলেন, যার মধ্যে শিশু নির্যাতনের দৃশ্য ছিল বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। জুলাই মাসে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি। এফবিআই জানিয়েছে, তারা অভিযোগগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০