টাকার অভাবে লিফলেট দিয়ে সিনেমার প্রচারণা, গড়ল আয়ের ইতিহাস

আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৭:০৩:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৭:০৩:৫৩ অপরাহ্ন

মুক্তির প্রথম দিনে আয় ১০ লাখ রুপিরও কম। প্রথম সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী ছিল মাত্র ৬০টি। এমন সূচনায় সিনেমাটির বক্স অফিস সাফল্য নিয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া ও মুখে মুখে প্রচারের সুবাদে এবার বড় আয়ের নজির গড়ছে কন্নড় সিনেমা ‘প্রেমাদা ওরালি’।

পরিচালক মনোজ কুমারের নির্মিত সিনেমাটির বাজেট ছিল তিন কোটি রুপিরও কম। অথচ মুক্তির ২৯ দিনের মাথায় বিশ্বব্যাপী এর বক্স অফিস আয় ১১৪ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সীমিত প্রদর্শনী ও প্রচারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে এমন সাফল্য অর্জন করায় ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনায় উঠে এসেছে সিনেমাটি। কন্নড় সংবাদমাধ্যম নিউজ কর্ণাটকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অল্পসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘প্রেমাদা ওরালি’। প্রথম দিনে আয় আশানুরূপ না হলেও দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেতে শুরু করে সিনেমাটি। সেই সাড়া ধীরে ধীরে বদলে দেয় বক্স অফিসের হিসাব।

পিংকভিলার প্রতিবেদন অনুসারে, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ভারতের বাজারে সিনেমাটির আয় ছিল ৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে। তৃতীয় সপ্তাহে আয় আরও বেড়ে হয় ৩৯ কোটি রুপি।

চতুর্থ সপ্তাহেও দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে সিনেমাটি। মুক্তির ২২তম থেকে ২৯তম দিন পর্যন্ত আট দিনে এর আয় হয়েছে ৩০ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ কোটি ৮১ লাখ রুপি আয় করেছে ছবিটি। তবে মুক্তির ২৯তম দিনে আয় কমে আনুমানিক ২ কোটি রুপিতে নেমে আসে।

প্রচারের অর্থ ছিল না, দর্শকের কাছে পৌঁছাতে ভিন্ন কৌশল

বক্স অফিসের সাফল্যের পাশাপাশি সিনেমাটির নির্মাণ ও প্রচারের গল্পও নজর কেড়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন পরিচালক মনোজ কুমার। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনেমার কাজ শেষ করার জন্য নিজের মূল্যবান জিনিসপত্র বন্ধক দেওয়ার কথাও ভাবতে হয়েছিল তাঁকে।

বড় বাজেটের সিনেমার মতো প্রচার চালানোর সামর্থ্য ছিল না নির্মাতাদের। তাই দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে প্রচলিত বিপণন কৌশলের বাইরে গিয়ে কাজ করেন তাঁরা। সিনেমার অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নিজেরাই রাস্তায় নেমে প্রচারপত্র ও আমন্ত্রণপত্র বিলি করেন। এমনকি গণপরিবহনের বাসে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণও জানান।

শুরুতে প্রচারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে দর্শকদের ভালো লাগার কথা ছড়িয়ে পড়তে থাকলে বাড়তে থাকে সিনেমাটির প্রদর্শনী। একই সঙ্গে বাড়তে থাকে বক্স অফিস আয়ও।

গ্রামীণ জীবনের গল্পে প্রেম ও দাম্পত্যের টানাপোড়েন

‘প্রেমাদা ওরালি’র গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষক নাগান্না ও তাঁর ছেলে শান্তু। স্ত্রীকে হারানোর পর একাই ছেলেকে বড় করেন নাগান্না। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বাবা চান, শিক্ষিত একটি মেয়ের সঙ্গে শান্তুর বিয়ে হোক। অন্যদিকে শান্তুর প্রতি দুর্বলতা রয়েছে তার আত্মীয় বসন্তার।

একপর্যায়ে বাবার পছন্দে রুক্মিণীকে বিয়ে করেন শান্তু। এরপর তাঁর দাম্পত্য জীবনে দেখা দেয় নানা জটিলতা। গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে প্রেম, পারিবারিক সম্পর্ক, দাম্পত্যের টানাপোড়েন ও নারীর অনুভূতিকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে সিনেমাটির কাহিনি।

গল্পনির্ভর এই সিনেমার সাফল্য নজর কেড়েছে কন্নড় চলচ্চিত্রশিল্পের পরিচিত মুখদেরও। ‘কেজিএফ’ তারকা যশ এবং ‘কান্তারা’র অভিনেতা-পরিচালক ঋষভ শেঠি সিনেমাটির পাশে দাঁড়ানো দর্শকদের প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, কর্ণাটকে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থান দখলের দৌড়েও রয়েছে ‘প্রেমাদা ওরালি’। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর আয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ছবিটির। তবে এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য বক্স অফিসের হিসাব ও অন্যান্য সিনেমার আয় বিবেচনায় নিতে হবে।

উল্লেখ্য, ১১৪ কোটি রুপির বক্স অফিস আয়কে নির্মাতাদের নিট মুনাফা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রেক্ষাগৃহের অংশ, পরিবেশনা খরচ ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দেওয়ার পর নির্মাতাদের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ কম হবে। তারপরও তিন কোটি রুপির কম বাজেটে নির্মিত একটি সিনেমার এমন ব্যবসায়িক সাফল্য তাৎপর্যপূর্ণ।

সিনেমাটিতে নাগান্না চরিত্রে অভিনয় করেছেন রঙ্গায়না রঘু, শান্তু চরিত্রে শ্রী রাম

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০