রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত হতে পারে?

আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৩:০৪:৫০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৩:০৪:৫০ অপরাহ্ন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে কেন্দ্রটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পিডিবিকে কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। শনিবার যুগান্তরকে তিনি এ তথ্য জানান।

একাধিক সূত্রের দাবি, রূপপুরের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে পিডিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি হতে পারে। কয়েকজন নীতিনির্ধারকের ধারণা, রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১০ টাকা হতে পারে।

পিডিবির বিশেষজ্ঞ কমিটির হিসাব অনুযায়ী, রূপপুর থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৭ মার্কিন সেন্ট বা ৮ টাকা ৭৫ পয়সায় পাওয়া যেতে পারে। তবে কমিটি এ প্রকল্পের জন্য কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ—অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও বিনিয়োগের অংশ হিসেবে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ—দেওয়ার পক্ষে নয়। এদিকে, প্রকল্পে কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব গত নয় মাসেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানি দিতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুর কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল ৮০ বছর ধরে হিসাব করার সুপারিশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান রোসাটম। তবে পিডিবি ৬০ বছর আয়ুষ্কাল ধরে হিসাব করে বিদ্যুৎ বিভাগে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই হিসাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৭ মার্কিন সেন্ট বা ৮ টাকা ৭৫ পয়সায় পাওয়া যেতে পারে।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, পিডিবির হিসাবে বেশ কিছু ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিশেষ করে বিমা ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে রাখা কঠিন হতে পারে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সই করা হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৭ মার্কিন সেন্ট। এতে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে ঋণের ৪ শতাংশ সুদসহ ২০ বছরে সরকারকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপপুর কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারের হার ৯০ শতাংশ ধরে হিসাব করা হয়েছে। কেন্দ্রটির বার্ষিক পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ডলার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ঋণ পরিশোধ শেষ হওয়ার পর ২০ বছর পর রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রকৃত আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ মার্কিন সেন্টে নেমে আসতে পারে। তবে বিষয়টি সরকারের প্রকল্প পরিচালনা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ২ দশমিক ৫০ থেকে ৪ দশমিক ৫০ রুপি। অন্যদিকে, প্রতিবেদনে রূপপুরের বিদ্যুতের সম্ভাব্য দাম প্রতি ইউনিট ৮ থেকে ১০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমলে প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

রূপপুরে পৌঁছেছে আরও এক চালান

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আরও এক চালান পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে জ্বালানির চালানটি ভারতের দিল্লি হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানটিতে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি বুঝে নেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০