ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ , ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘কানা মমিন’ গ্রেপ্তার মধ্যরাতে মদ্যপ নির্মাতার অদ্ভুত আবদার, তিক্ত অভিজ্ঞতা জানালেন স্বরা ভাস্কর লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৫৪৭ গুলশানে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ মদের গুদাম সিলগালা নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যেই মতবিরোধ ভারতের কৃষক কার্ড বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: ডেপুটি স্পিকার ৩৬ পিলারে ফাটল, ঝুঁকি নিয়েই চলছে প্রাথমিকের পাঠদান গভীর সমুদ্র থেকে মালয়েশিয়াগামী ৬৫ জন উদ্ধার, আটক ১১ ডায়েটে অতিরিক্ত ফল খেয়ে উল্টো ওজন আরও বাড়াচ্ছেন না-তো? চাঁদপুরে মা ইলিশ ধরলে ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাতিল হবে জেলে কার্ড ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করতে আরজেএসসি ও আইবিএর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস, মদ ও ওষুধ জব্দ মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন সেনাবাহিনী প্রধানের নিয়মিত দরবার অনুষ্ঠিত জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্ন জমায় সময় বাড়াল এনবিআর সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পদক্ষেপ নেবে কমিশন: ইসি সচিব জানুয়ারি-জুনে সম্পন্ন হবে স্থানীয় নির্বাচন, প্রয়োজনে সেনা: মীর শাহে আলম উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীকে কুমিল্লাবাসীর অভিবাদন রাড্ডা ক্লিনিক দখলকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের

৩৬ পিলারে ফাটল, ঝুঁকি নিয়েই চলছে প্রাথমিকের পাঠদান

  • আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ১২:০৩:১৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ১২:০৩:১৭ অপরাহ্ন
৩৬ পিলারে ফাটল, ঝুঁকি নিয়েই চলছে প্রাথমিকের পাঠদান

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ১৪৫ নম্বর পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভবনটির প্রায় ৩৬টি পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই বিকল্প ভবন ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে ঝুঁকি নিয়েই সেখানে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়টি উপজেলার পশ্চিম শশিকর এলাকায় একটি প্রবাহমান ওয়াপদার খালের পাশে অবস্থিত। ২০০১ সালে বিদ্যালয়টির ভবন পুনর্নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে এসব ফাটল আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভবনের পাশে একদিকে খালের প্রবল স্রোত, অন্যদিকে ভবনের পিলার, বিম ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় ও ফাটলের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের প্রায় ৩৬টি পিলারে ফাটল এবং পলেস্তারা খসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। কোথাও কোথাও বিমের কংক্রিটও ধসে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে শ্রেণিকক্ষের মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। দেয়াল ও পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে ভবনের পিলার ও দেয়ালের ফাটল দেখতে তাদের ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে ছাদ ও দেয়াল দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কায় অনেক সময় তারা আতঙ্কে থাকে। নিরাপদ পরিবেশে নিয়মিত ক্লাস করার জন্য দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

শিক্ষকেরাও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় এটি ব্যবহার করা ছাড়া আপাতত বিকল্প নেই। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ার কারণে পাঠদান আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দ্রুত ভবনের নিরাপত্তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবনটি সংস্কার করা অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ডাসার উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চিঠি দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর তাঁরা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন। ভবনটির বিমের কংক্রিট ধসে পড়েছে এবং বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং সেই ভবনেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে বলে তিনি অবগত হয়েছেন। ভবনটির অবস্থা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির মাধ্যমে ভবনটি পরীক্ষা করে এটি ব্যবহার উপযোগী কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী ইতোমধ্যে ভবনটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও বিষয়টি অবগত আছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘কানা মমিন’ গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘কানা মমিন’ গ্রেপ্তার