ইতালির বিপক্ষে খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন জিনেদিন জিদান। সেই ইতালির বিপক্ষেই কোচিং জীবনের শুরুতে ঘরের মাঠে অভিষেক হলো ফ্রান্সের হয়ে। ফলে ম্যাচ ঘিরে জিদানের ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই আলোচিত ঘটনার স্মৃতিও ফিরে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মাঠের লড়াই, যেখানে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও ইতালির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ফ্রান্স।
চার দিন আগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে একক নৈপুণ্যে গোল করেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে। তাঁর সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্রান্স। এবারও দলকে এগিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া ওলিসের শট ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায়। ৫৫ মিনিটে আসে গোলটি।
তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি ফ্রান্স। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে সমতায় ফেরে ইতালি। ফ্রান্সের বক্সের বাইরে লুকাস দা কুনিয়ার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে সহজেই জালে পাঠান ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি।
শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স। ৮৫ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার দাইয়ো উপামেকানো। ফলে শেষ কয়েক মিনিট একজন কম নিয়ে খেলতে হয় স্বাগতিকদের।
ড্রয়ের পরও উয়েফা নেশনস লিগের এ১ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। তাদের পয়েন্ট ৭। এক পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেলজিয়ামের পয়েন্ট ৬। তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। সোমবার এই দুই দল মুখোমুখি হবে। ইতালির পয়েন্ট ৪; পরের ম্যাচে তারা তুরস্কের মুখোমুখি হবে।
জিদানকে ঘিরে ম্যাচটিতে আলাদা আগ্রহ ছিল। প্যারিসের কাছে স্তাদ দ্য ফ্রাঁসে ৭৭ হাজার ১১৮ দর্শকের সামনে তাঁর প্রথম ঘরের ম্যাচটি পড়েছিল সেই ইতালির বিপক্ষেই, যাদের বিপক্ষে খেলোয়াড় হিসেবে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেছিলেন জিদান। বার্লিনের সেই ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল ইতালি। এরপর আর জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি তিনি।
এর আগে ২০০৬ সালের মে মাসে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়ামে শেষবার খেলেছিলেন জিদান। সেটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ১০০তম ম্যাচ।
ম্যাচ শেষে জিদান বলেন, দলের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট হলেও ফলাফলে খুশি নন। সমর্থকদের সামনে জয় পাওয়ার ইচ্ছা ছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, স্তাদ দ্য ফ্রাঁসে ফিরে আসা ছিল আবেগের ও আনন্দের মুহূর্ত।
তিনি আরও বলেন, দলের খেলার মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু সেটি কাজে লাগানো যায়নি। তবু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত বলে জানান।
নেশনস লিগের এই ম্যাচের পাশাপাশি জিদানের দৃষ্টি রয়েছে ফ্রান্সের পরবর্তী বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর দিকেও। ইতালির বিপক্ষে ড্র দিয়ে ঘরের মাঠের ম্যাচ শুরু হলেও তাঁর দলের সামনে এখন গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।
স্পোর্টস ডেস্ক