সাভারের আশুলিয়ায় সড়কে গাছ ফেলে যানবাহনে ডাকাতির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত ও যানবাহনের মালামাল লুটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করেও তাৎক্ষণিক পুলিশের সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন হাফেজ ক্বারী কামরুজ্জামান।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর আশুলিয়া থেকে কাঠগড়া আঞ্চলিক সড়কের দুর্গাপুর এলাকার নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার খবর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ভুক্তভোগী হাফেজ ক্বারী কামরুজ্জামান আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
কামরুজ্জামান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পরিবার নিয়ে বাসায় ফেরার পথে কাঠগড়া বাজার রোডের ঝোপঝাড় ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর গাছ পড়ে থাকতে দেখেন। ওই গাছ ফেলে প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের গতিরোধ করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, একটি প্রাইভেটকারের যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে গাছ সরানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কোপানোর ঘটনায় ওই গাড়ির একাধিক যাত্রী আহত হন বলে তাঁর দাবি। একই সময় পেছনে থাকা অন্য কয়েকটি যানবাহন এবং একটি রিকশার যাত্রীদের কাছ থেকেও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
কামরুজ্জামান আরও বলেন, হামলাকারীরা তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলে। পরে তিনি কৌশলে গাছের পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর ৯৯৯ নম্বরে একাধিকবার ফোন করার দাবি করে কামরুজ্জামান বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল আসে। তবে পুলিশ ‘ডিউটি জোন বা এরিয়ার বাইরে’ থাকার কথা বলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে ডিউটিতে থাকা এএসআই রতন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
তবে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জি বাংলা ডেস্ক