একসময় বই-খাতা হাতে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ছুটে যেতেন সত্যব্রত ঘোষ অর্ঘ্য। অন্য সহপাঠীদের মতো তাঁরও ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন। ভেটেরিনারি চিকিৎসক হয়ে প্রাণীর সেবা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর বদলে গেছে তাঁর স্বাভাবিক জীবন। একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়েছেন, অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তিও প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
সত্যব্রত ঘোষ অর্ঘ্য গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি মানিকগঞ্জ ভেটেরিনারি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিলেন অর্ঘ্য। গত ১৫ আগস্ট তাঁর সাইনো-ন্যাজাল ক্যানসার শনাক্ত হয়। এরপর শুরু হয় অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ইতোমধ্যে একটি চোখে অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসা এখনো চলমান।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্ঘ্যকে ভারতের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পরিবার। আগামী ৫ অক্টোবর তাঁর পরবর্তী কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা রয়েছে।
অর্ঘ্যের পরিবার জানায়, দেশে তাঁর চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার ও ওষুধের ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বিদেশে চিকিৎসার খরচ বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা এখন পরিবারের নেই।
অর্ঘ্যের বাবা সুপ্রিয় ঘোষ লাভলু মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দশচিড়া গ্রামের বাসিন্দা। টেড়া বাজারে তাঁর ছোট একটি ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। একমাত্র ছেলের অসুস্থতার পর ব্যবসা প্রায় বন্ধ রেখে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ছুটছেন তিনি। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।
শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় অর্ঘ্যের নিজের পায়ে হাঁটতেও কষ্ট হয়। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। খাবার খাওয়ানোসহ দৈনন্দিন কাজেও এখন অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। তবে সুস্থ হয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আশা ছাড়েননি তিনি।
অর্ঘ্যের পরিবার ও সহপাঠীরা তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় অর্ঘ্যের চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
সুপ্রিয় ঘোষ
হিসাব নম্বর: ১০৮২৩৭৭৭১০০০১
ব্র্যাক ব্যাংক, শিবালয় সাব-শাখা, মানিকগঞ্জ।
জি বাংলা ডেস্ক