ঢাকা , শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ইনভেস্টমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী ‘মোদি আমার বন্ধু হয়েও প্রশ্ন তোলেন ইউক্রেনের যুদ্ধে’! মেসির মালিকানায় প্রথম ম্যাচেই এলদেনসের বড় জয় ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় জমা পড়া সেরা কয়েকটি ছবি বাঙালিরে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা কইরেন না: মামুনুল হক মধ্যরাতে নৌকা বাইচের মাঠে খাদ্যমন্ত্রী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে যোগ দিয়ে‌ছেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে একদিনে ৩ জনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পলাতকদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী বধির স্কুলের জমি আর দখল হতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’: শফিকুর রহমান সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে জিএম কাদেরের শোক মহাত্মা গান্ধীর ভ্রাতৃত্বের বার্তা বিশ্বে আরও বে‌শি ছ‌ড়িয়ে পড়ুক: দিনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক বিদেশি মিশন থেকে পালিয়েছেন এনএসআইর চার কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়াতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের প্রথম নিজস্ব চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’ ‘সংগঠন হিসেবে শিবির যেসব কর্মকাণ্ডের দায় নিতে পারত না, তা করত আম্মার’ বাবার দাফনে মোজতবা খামেনি উপস্থিত ছিলেন, দাবি শাশুড়ির

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

  • আপলোড সময় : ০৩-১০-২০২৬ ১১:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-১০-২০২৬ ১১:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। তাই প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুদৃঢ় করা হচ্ছে। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার মতো একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন। সংকটের মূল কারণের সমাধানও জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।

বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মাধ্যমে পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ডের’ মাধ্যমে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা এবং ‘ইউনিভার্সেল কার্ডের’ মাধ্যমে সমন্বিত সরকারি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণের কথাও বলেন তিনি।

তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাঁদের ভাষাগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্টআপে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি।

পানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও জানান তিনি। এসব উদ্যোগ কৃষি ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ লিড-সার্টিফায়েড কারখানার ৫৩টি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই ভৌগোলিক অবস্থানকে আঞ্চলিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা সম্ভব। নতুন বাজার সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ। শান্তি ও সম্প্রীতিকে যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এমন একটি এলাকায় পরিণত হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে এবং পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী