জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নর্ডভাল্ডে নিজ বাড়ি থেকে ৮০ বছর বয়সী হ্যানিংকে গ্রেপ্তার করে ফেডারেল পুলিশের কর্মকর্তারা।
একই অভিযানে হ্যানিংয়ের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহকারী ও বিএনডির সাবেক ব্যুরোপ্রধান ম্যানফ্রেড ডিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক গুপ্তচরবৃত্তি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার সন্দেহ রয়েছে। ম্যানফ্রেড ডির বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
হ্যানিং ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনডির প্রধান ছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০১০ সালের দিকে তিনি সাবেক সহকারীর সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। এর আওতায় অর্থের বিনিময়ে ম্যানফ্রেড ডি বিএনডিতে কর্মরত অবস্থায় সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে হ্যানিংকে দিতে থাকেন। ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২ হাজার নথি হ্যানিংয়ের হাতে তুলে দেন বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
এসব নথির মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য ছিল। এর মধ্যে বিদেশি সহযোগী গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত নথিও ছিল বলে জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, হ্যানিং এসব তথ্য তার ব্যক্তিগত পরামর্শক ব্যবসায় ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। অন্তত একটি ঘটনায় এসব তথ্য ব্যবহার করে তিনি একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণ তৈরি করেছিলেন বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তবে কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার জন্য ওই বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
জার্মান সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে অবশ্য আজারবাইজানের সঙ্গে হ্যানিংয়ের যোগাযোগের সন্দেহের কথা উঠে এসেছে। তবে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দেশটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্যও তদন্তকারীরা দেননি।
অভিযোগের সূত্রপাত ঘটে ভিন্ন একটি তদন্ত থেকে। ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণসংক্রান্ত মামলায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যানিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ওই তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা বিএনডির বিপুলসংখ্যক গোপন নথির সন্ধান পান। পরে সেখান থেকেই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়।
জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় গোয়েন্দা কেলেঙ্কারি হিসেবে বর্ণনা করছে। তদন্তের আওতায় হ্যানিং ও ম্যানফ্রেড ডির পাশাপাশি আরও কেউ জড়িত কি না এবং সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি কোনো পক্ষের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হ্যানিংকে বুধবার ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিসের তদন্তকারী বিচারকের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে হেফাজতে রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক