ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ , ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল আরও ৭ ফিলিস্তিনির যন্তর মন্তর যেভাবে গণতন্ত্রের স্পন্দন মাপতে শুরু করল খুলনায় পিস্তলসহ গ্রেফতার ১ বিশ্ব ডিম দিবস আজ বিশ্বে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় পঞ্চম ঢাকা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও রেলভিত্তিক আইসিডিতে বিনিয়োগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান নবীনদের সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান আইজিপির ফায়ার সার্ভিসের ৫৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী পেলেন মহাপরিচালকের প্রশংসা চট্টগ্রাম ড্রাই ডক পরিদর্শন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী বেসিক স্কুবা ডাইভিং কোর্সের সমাপনী, সনদ পেলেন প্রশিক্ষণার্থীরা নেপালে আন্তর্জাতিক টার্গেটবল প্রতিযোগিতায় বিজিবির ২৪ সদস্যের সাফল্য জঙ্গল সলিমপুরে সারদার মতো পুলিশ একাডেমি করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি কসমেটিকসে স্টিকার নেই, চাঁদপুরে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, ২৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা ইউপি নির্বাচন কবে শুরু, সোমবার সময় জানাবে ইসি কক্সবাজারে ইয়াবাসহ এফডিএমএন সদস্য আটক কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা একনজরে নানা পাটেকরের বর্ণাঢ্য জীবন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতায় ২ হাজার কোটি টাকার ফান্ড

রাঙামাটিতে ৫ বছরে ১৩ প্রাণহানি, মারা গেছে ৭ বন্য হাতি

  • আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১১:৩০:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১১:৩০:০৭ পূর্বাহ্ন
রাঙামাটিতে ৫ বছরে ১৩ প্রাণহানি, মারা গেছে ৭ বন্য হাতি

রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় গত পাঁচ বছরে বন্য হাতির আক্রমণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শিকার, বিদ্যুতায়িত ফাঁদ, আবাসস্থল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মারা গেছে সাতটি বন্য হাতি। এ সময়ে মানুষ ও হাতির সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০৪টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে রাঙামাটিতে হাতির আক্রমণে অন্তত ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে মারা গেছে অন্তত ১৩টি বন্য হাতি। হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং চলাচলের করিডোরে মানুষের বসতি ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় সংঘাত বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাঙামাটির কাপ্তাই, লংগদু ও বরকল উপজেলায় মানুষ ও হাতির সংঘাতের ঘটনা বেশি ঘটছে। বিশেষ করে কাপ্তাইয়ে হাতির চলাচলের করিডোর হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে প্রায়ই বন্য হাতির পাল সড়ক ও লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে জুমক্ষেত, ফসল ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি।

মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে প্রায় চার বছর আগে কাপ্তাইয়ে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আট কিলোমিটার সোলার ফেন্সিং নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে হাতির লোকালয়ে প্রবেশ ঠেকাতে কোটি টাকা ব্যয়ের এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে দাবি তাদের।

গত পাঁচ বছরে হাতির আক্রমণে ১৩ জন নিহতের পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০৪টি পরিবারকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন রাঙামাটি অঞ্চলে ৫০টির বেশি বন্য হাতি রয়েছে বলে ধারণা করছে বন বিভাগ। তবে এ অঞ্চলে হাতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বন্য হাতির সংখ্যা নিরূপণ ও সংরক্ষণে বর্তমানে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি শেষ হলে পার্বত্য অঞ্চলে বন্য হাতির প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি বন সার্কেলের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন উজাড়, হাতির চলাচলের করিডোর দখল এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে হাতির স্বাভাবিক আবাসস্থল ও বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। খাবারের সন্ধানে হাতি লোকালয়ে চলে আসায় বাড়ছে মানুষ ও হাতির সংঘাত। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বনাঞ্চল রক্ষা, হাতির করিডোর সংরক্ষণ, দেশীয় প্রজাতির গাছ দিয়ে বন পুনরুদ্ধার এবং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

রাঙামাটি হিলি সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, বন ও হাতির চলাচলের পথ রক্ষা করা না গেলে সংঘাত আরও বাড়বে। হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, মানুষ-হাতি সংঘাতের জন্য শুধু হাতিকে দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না। মানুষের কর্মকাণ্ডে হাতির আবাসস্থল ও বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বন ও হাতির করিডোর সংরক্ষণে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাতি ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আবাসস্থল ও করিডোর সংরক্ষণের পাশাপাশি সংঘাতপ্রবণ এলাকায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানুষ ও বন্য হাতির সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল আরও ৭ ফিলিস্তিনির

গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল আরও ৭ ফিলিস্তিনির