কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) ঘটনার দিন নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনে আসক্ত সুমন। শনিবার রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজমিনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তিনি।
সুমনের ভায়রা যুবায়ের জানান, সুমনের ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মাদকাসক্তি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী জেসমিন সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। সুমন থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে বসতঘরের আসবাবপত্রসহ একে একে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে দেন তিনি। বর্তমানে নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন সুমন বলে জানান যুবায়ের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান সুমন। দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সঙ্গেও জড়িত তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে লালমাই থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে।
সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সুমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার গভীর রাতে জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন। এরপর পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল করে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রামের অলংকার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামেন তাজমিন। সেখান থেকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। পুলিশের দাবি, চালক সুমন তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় সুমনকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। শনিবার রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জি বাংলা ডেস্ক