ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিষ্টির শূন্য আসনে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা নির্লজ্জতার এক নতুন উদাহরণ দেখা গেল চুয়েটে: সাদিক কায়েম বিধবা কার্ড চালু হলে এমপির বউও নেবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব ইউরোপে বৈধ পথে জনশক্তি পাঠাতে ইইউর সঙ্গে মাহদী আমিনের বৈঠক ‘কাজ দেওয়ার নামে শারীরিক সম্পর্ক করতে বলেছিলেন’ বিসিএস ক্যাডার মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর শোক যে অভিযান গোয়েন্দা সিনেমাকেও হার মানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে যা জানাল ডিবি পরাজিত শক্তি দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই নারী শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে পরিবারসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে: রাষ্ট্রপতি ইউপি নির্বাচন শুরু ২১ জানুয়ারি, পাঁচ ধাপে ভোটের পরিকল্পনা দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি লালমনিরহাট সীমান্তে ২ লাখ ৯ হাজার টাকার মাদকসহ আটক ২ মাস্কের এক পোস্টেই টালমাটাল আম্বানির সাম্রাজ্য মদসহ দম্পতি আটক তালা ভেঙে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে নতুন উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সিলভিয়াকে নিয়ে কলকাতায় বিলাসী জীবনযাপন শাহরিয়ারের, টাকা আসে যেভাবে

  • আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৬ ১০:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-১০-২০২৬ ১০:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
সিলভিয়াকে নিয়ে কলকাতায় বিলাসী জীবনযাপন শাহরিয়ারের, টাকা আসে যেভাবে

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক ঘণ্টা আগে রাজশাহী ছেড়ে সড়কপথে গেদে সীমান্তে পৌঁছান। পরে ভারতে প্রবেশ করে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে শাহরিয়ার ভারতের কলকাতার নিউটাউনে সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনিকে নিয়ে বসবাস করছেন। সেখানে তার স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলার পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্র ও রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাসিত নেতাদের যাতায়াত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। দেশকে অস্থিতিশীল করতে সেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে শাহরিয়ার চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফর করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজশাহীর তিনটি থানায় শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এ ছাড়া তার ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহরিয়ার ২০১৯ সালের দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্ত্তুজা বাবুর মেয়ে সিলভিয়া পারভীন লেনিকে বিয়ে করেন। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিত্বের সময় প্রভাব খাটিয়ে ২০২১ সালে লেনির মা রোকসানা মর্ত্তুজাকে লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র করা হয়। লেনির জন্য লালপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি এবং ঢাকার গুলশানে ৩ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে শাহরিয়ারের ব্যবসা ও আর্থিক বিষয়গুলো তার ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ব্যবসায়িক অংশীদার নাঈমুল বাশার চৌধুরী, মুহাম্মদ সাঈদ, রাজশাহীর ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি চক্র দেখভাল করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

শাহরিয়ারের গার্মেন্ট ব্যবসা দেখছে ঘনিষ্ঠরা

২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার পর শাহরিয়ার আলমের অর্থনৈতিক উত্থান ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে তার তৈরি পোশাক ব্যবসা সম্প্রসারিত হয় এবং তিনি রেনেসাঁ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে বর্তমানে গ্রুপটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈমুল বাশার চৌধুরী এবং পরিচালকদের অন্যতম মুহাম্মদ সাঈদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেনেসাঁ গ্রুপে শাহরিয়ারের ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখভাল করছেন নাঈমুল বাশার ও মুহাম্মদ সাঈদ।

দেশের আরেকটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার আলম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটিতে তার প্রতিনিধিত্ব করছেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী।

ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেডেও শাহরিয়ারের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানেও তার পক্ষে আর্থিক বিষয়গুলো দেখভাল করেন নাঈমুল বাশার। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার দুটি নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে রেনেসাঁ গ্রুপের পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘শাহরিয়ার আলম শেয়ারহোল্ডার। উনি এখন নেই। ব্যবসা চলছে। লোকজন কাজ করছেন।’

শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখভালের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি ব্যবসাতে অনেকদিন থেকেই নেই। ব্যবসা আমরা চালাচ্ছি। এখন মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব।’

ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সম্পদ দেখভালে স্বজনেরা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অংশীদারত্বের ব্যবসার পাশাপাশি শাহরিয়ার ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠন গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করছেন তার বাবা মো. শামসুদ্দিন, ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও রাজশাহী জেলার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাসানুর সজল, তানজিম এবং তসিকুলসহ কয়েকজন।

রাজশাহী মহানগরীর অভিজাত এলাকায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ারের বাবা। তবে বর্তমানে বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের চিকিৎসকেরা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে শীর্ষ দুটি রাজনৈতিক দলের তহবিলে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে শাহরিয়ারের ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাজশাহীর বাঘার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেনের প্রায় ৪০ বিঘা জমি নামমাত্র মূল্যে জোরপূর্বক নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে। জমিটির মূল্য ছিল শতকোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সেখানে বরেন্দ্র এগ্রো ফার্ম গড়ে তোলা হয়। গোলাম হোসেন সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে গিয়েও জমি উদ্ধার করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া শাহরিয়ার শতাধিক বিঘা জমি কিনেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজশাহী ও ঢাকায় তার একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। বাঘা ও চারঘাট উপজেলা সদরে শতকোটি টাকার জমি কেনার পাশাপাশি লালপুর ও ঈশ্বরদীতেও নামে-বেনামে জমি কেনার তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ঢাকার গুলশানে নিজের নামে দুটি এবং ছেলের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহরিয়ারের বাবা শামসুদ্দিন ও ভাই সাইফুল ইসলাম বাদলসহ তার রাজনৈতিক সহযোগীরা ঢাকা ও রাজশাহীতে এসব সম্পদ দেখভাল করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শামসুদ্দিন ও বাদলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সচিবালয়ে কড়াকড়ি: এমপিদের গাড়িতেও অতিরিক্ত ব্যক্তি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

সচিবালয়ে কড়াকড়ি: এমপিদের গাড়িতেও অতিরিক্ত ব্যক্তি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা