ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিষ্টির শূন্য আসনে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা নির্লজ্জতার এক নতুন উদাহরণ দেখা গেল চুয়েটে: সাদিক কায়েম বিধবা কার্ড চালু হলে এমপির বউও নেবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব ইউরোপে বৈধ পথে জনশক্তি পাঠাতে ইইউর সঙ্গে মাহদী আমিনের বৈঠক ‘কাজ দেওয়ার নামে শারীরিক সম্পর্ক করতে বলেছিলেন’ বিসিএস ক্যাডার মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর শোক যে অভিযান গোয়েন্দা সিনেমাকেও হার মানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে যা জানাল ডিবি পরাজিত শক্তি দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই নারী শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে পরিবারসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে: রাষ্ট্রপতি ইউপি নির্বাচন শুরু ২১ জানুয়ারি, পাঁচ ধাপে ভোটের পরিকল্পনা দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি লালমনিরহাট সীমান্তে ২ লাখ ৯ হাজার টাকার মাদকসহ আটক ২ মাস্কের এক পোস্টেই টালমাটাল আম্বানির সাম্রাজ্য মদসহ দম্পতি আটক তালা ভেঙে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে নতুন উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই, সঙ্গে ১৭ হাজার টাকাও

  • আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৬ ১১:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-১০-২০২৬ ১১:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন
শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই, সঙ্গে ১৭ হাজার টাকাও

চুরি হওয়া ফোন দাবি করে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কেনা আইফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান টিটুর বিরুদ্ধে। এ সময় ফোন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ানের অভিযোগ, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের শফিক মোড় এলাকায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে আইফোনটি নিয়ে যান এসআই মেহেদী হাসান টিটু। ওই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, ফোনটি চট্টগ্রাম থেকে চুরি হয়েছিল।

আবুল হাসনাত আয়ান তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

আয়ান জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকান থেকে ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় কেনেন তিনি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই মেহেদী হাসান টিটু তাঁর বাসায় গিয়ে ফোনটি চোরাই বলে দাবি করেন। এর আগের দিন ফোন করে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যও নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আয়ানের ভাষ্য, এসআই তাঁকে জানান, চট্টগ্রামে এক নারীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাঁর মোবাইল ফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করা হয়েছিল। এ সময় আয়ান ফোন কেনার ক্যাশ মেমো ও বক্স দেখান। পাশাপাশি এসআইয়ের সামনেই দোকানে ফোন করে সেটি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এরপরও এসআই তাঁকে বলেন, ফোনটি যেহেতু তাঁর কাছে পাওয়া গেছে, তাই সমস্যাটি তাঁরই। এ সময় আয়ানের মামা উপস্থিত ছিলেন। তিনি এসআইকে বলেন, যে দোকান থেকে ফোনটি বিক্রি করা হয়েছে, সেখানে অভিযান চালানো উচিত। আয়ান বৈধভাবে ফোনটি কিনেছেন এবং তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আয়ানের অভিযোগ, পরে তাঁকে ফোনসহ থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যান এসআই।

আয়ান বলেন, বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাজধানীর একটি দোকান থেকে নগদ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ফোনটি কিনেছেন তিনি। ফোন কেনার সব কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেও ফোন কেনার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বৈধভাবে মোবাইল কিনেছি। কেনার সব ডকুমেন্ট আমার কাছে রয়েছে। তারপরও আমার টাকার কথা চিন্তা না করে আমার কেনা মোবাইল নিয়ে গেলেন শ্রীপুর থানার এসআই মেহেদী হাসান টিটু। উপরন্তু আমার কাছ থেকে আরও ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন।’

আয়ান জানান, ফোন নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করে রাখতে তিনি এসআইকে অনুরোধ করেছিলেন। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে নিয়ে গেলেও তাঁকে ভিডিওটি সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হয়নি।

ফোন কেনার পরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উল্লেখ করে আয়ান প্রশ্ন তোলেন, তাঁর ক্ষতিপূরণ ও টাকা উদ্ধারে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।

এসআইয়ের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা বাসায় নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। পরে ওই নারীর বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও একটি আইফোন নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী একটি সিআর মামলা করেন। মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ডিবি থেকে তাঁকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ফোনটি উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন।

তবে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দোকান থেকে ফোনটি কিনেছেন—এমন তথ্যও স্বীকার করেন এসআই। শিক্ষার্থীর আর্থিক ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি শ্রীপুরের স্থানীয় এক সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই সাংবাদিক তাঁকে ভালোভাবে চেনেন ও স্নেহ করেন। এ সময় তিনি গাজীপুর জেলা পর্যায়ের সরকারি দলের এক শীর্ষ নেতার ভাগ্নে বলেও পরিচয় দেন। শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেখা করে চা-পানের প্রস্তাব দেন।

পুলিশের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মেহেদী হাসান টিটু নামে তাঁদের একজন এসআই রয়েছেন। তিনি বলেন, একজন এসআই এভাবে টাকা নিতে পারেন না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘এসআই ১৭ হাজার টাকা কেন নেবেন? মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে টাকা নিতে পারেন না।’


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সচিবালয়ে কড়াকড়ি: এমপিদের গাড়িতেও অতিরিক্ত ব্যক্তি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

সচিবালয়ে কড়াকড়ি: এমপিদের গাড়িতেও অতিরিক্ত ব্যক্তি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা