সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলার মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পদে কর্মরত ছিলেন।
সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৩ অক্টোবর রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার পার্থ সারথী হালদার (৪৩) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম কার্তিক চন্দ্র হালদার এবং মায়ের নাম পিকুল রানী হালদার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় পার্থ সারথীসহ অন্য অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানির মালিকের স্বাক্ষরযুক্ত খালি চেক ব্যবহার করে প্রাপকের নাম পরিবর্তন, নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দেওয়ার মতো পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংক ট্রান্সফার ও আরটিজিএসের মাধ্যমে ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরির অভিযোগ রয়েছে। সফটওয়্যারে গ্রাহকদের অর্থ জমা দেখানো হলেও ব্যাংক বিবরণী ও পার্টি লেজার পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট অর্থ কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা না হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় সানজি গ্রুপের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১৩। এতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৮, ৪২০, ৪৬৮, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেছে, পার্থ সারথী বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ তাঁর ব্যক্তিগত ব্র্যাক ব্যাংক হিসাবে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত নগদ অর্থের হিসাব সমন্বয়, সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি এবং এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
সানজি গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকেও একই কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পার্থ সারথী এককভাবে বিভিন্ন তারিখে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও খালি চেক সংগ্রহ করে পরে চেকে নিজেদের পছন্দমতো প্রাপকের নাম বসিয়ে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে সর্বমোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার পার্থ সারথীর বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলছে। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী অপরাধের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এ মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) এবং সৈয়দ আরব আলীকে (৫২) গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
জি বাংলা ডেস্ক