ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে: মীর শাহে আলম গ্রাম-শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে প্রেরণ, পাচার চক্রের ২ সদস্য আটক তরুণদের চোখে চোখ রেখে কথা বলার স্বাধীনতা দিতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের শুভ উদ্বোধন : ডিজিটাল তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিআইডির নতুন মাইলফলক সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রায়পুরায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, অগ্নিনির্বাপণ মহড়া দেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ ছয় দফা দাবি সাদপন্থিদের যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চুরির অপবাদে শিশুকে নির্যাতন, কীটনাশক পান করে হাসপাতালে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে: আইনমন্ত্রী ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা দুর্গাপূজায় চালের বরাদ্দ বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী: এমপি ফয়সল জার্মান পর্যটকের উদ্ধার ল্যাপটপ হস্তান্তর করেছে পুলিশ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

বিএনপির অতীতের সাফল্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন উদ্যোগের অনুপ্রেরণা

  • আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৬ ১২:০২:৩৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৬ ১২:০২:৩৯ অপরাহ্ন
বিএনপির অতীতের সাফল্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন উদ্যোগের অনুপ্রেরণা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে অনুসৃত বিস্তৃত কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো নতুন করে কার্যকর করার চেষ্টা করছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, “বিএনপি সরকারে থাকার সময় রোহিঙ্গাদের সফলভাবে প্রত্যাবাসনের ইতিহাস আমাদের রয়েছে।” নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নথি অনুযায়ী, তৎকালীন বার্মার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তির আওতায় ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

শামা ওবায়েদ বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে আসা প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গাকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল।”

এরপর ১৯৯২ সালে আরও প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সে সময় খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে প্রায় দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, অতীতের এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, মিয়ানমারের সঙ্গে ধারাবাহিক রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সম্পৃক্ততা থাকলে প্রত্যাবাসনে সাফল্য অর্জন সম্ভব।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সময়ও বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করেন বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ওই সময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়া সীমান্তের কাছে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া এবং মানবিক আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানানো প্রথম সারির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের একজন ছিলেন।

শামা ওবায়েদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন, “তাদের আসতে দিন, দেশে প্রবেশ করতে দিন।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট এখন দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠী এ চাপের মুখে পড়ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। শিবিরগুলোতে তাঁদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং প্রতিবছর ৩০ হাজারেরও বেশি শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে আসছে। এতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

এ পরিস্থিতিতে সংকটকে অনির্দিষ্টকাল মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রত্যাবাসন শুরু করাই সরকারের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, “আমরা অন্তত প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাই।”

জাতিসংঘের আরও জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

শামা ওবায়েদ বলেন, অতীতের সফল প্রত্যাবাসন উদ্যোগগুলোর সঙ্গে পরবর্তী উদ্যোগগুলোর অন্যতম প্রধান পার্থক্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাত্রা। তাঁর মতে, আগের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াগুলোতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদার তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়া কাজ করেনি। এটি ব্যর্থ হয়েছে।”

আগের সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত সমঝোতা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় পরিসরে কোনো সংগঠিত প্রত্যাবাসন হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শামা ওবায়েদ জানান, এ কারণে বর্তমান সরকার জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারকে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, জাতিসংঘ এখন এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হবে।”

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গেও বাংলাদেশ যোগাযোগ রাখছে বলে জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ এখনো কঠিন। তবে ঢাকা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—উভয় চ্যানেলেই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘে সংকট সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটকে সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের বহুপক্ষীয় আলোচনায়ও গুরুত্ব দিয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকট সমাধানে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন; বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ; পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা; ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি জোরদার করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

এর একদিন পর, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো তাঁদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও শেষ পর্যন্ত সেখানেই নিহিত।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আরও জোরালো ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

চীন, আসিয়ান ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ

শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব থাকায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ জোরদার করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইন। এসব দেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক রয়েছে এবং সংকট সমাধানে তারা নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে পারে বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ।

তিনি বলেন, তুরস্কসহ অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষের উপস্থিতির কারণে সংকটটি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে বলে সতর্ক করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সমস্যা। রাতারাতি এর সমাধান হবে না।”

প্রত্যাবাসনের যোগ্য রোহিঙ্গাদের যাচাই ও পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বাংলাদেশ বারবার মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে সফল প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা এখনো প্রাসঙ্গিক বলে সরকার মনে করে। বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের পাশাপাশি জাতিসংঘের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রাখবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, “লক্ষ্য কেবল বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে তাঁদের ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাওয়া নয়। আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যাতে বাস্তবেই প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়।”


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
আইএমএফের ঋণে শর্ত থাকবে, তা পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

আইএমএফের ঋণে শর্ত থাকবে, তা পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী