নড়াইল সদর উপজেলায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামি প্রহলাদ খান (৪৮) প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী নারী। তাঁর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, আসামি পলাতক এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন ধর্ষণ মামলার বাদী ওই নারী।
অভিযুক্ত প্রহলাদ খান লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ছায়মানার-চর গ্রামের মৃত মছু খানের ছেলে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে প্রহলাদ খান নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন এবং প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরপরও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
এর আগে গত ১ অক্টোবর এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ওই নারী। পরে ৩ অক্টোবর দুপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত প্রহলাদ খান। সেখানে তিনি মামলাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তবে মামলা দায়েরের দুই সপ্তাহ পার হলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানান বাদী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশেষ কাজে অভিযুক্ত প্রহলাদের সঙ্গে নড়াইলে আসেন ৪৪ বছর বয়সী ওই নারী। সেদিন নড়াইল থেকে ফেরার পথে সদর উপজেলায় নিজের এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে যাওয়ার অনুরোধ করেন প্রহলাদ। পরে তাঁর সঙ্গে ওই বাড়িতে গেলে একটি ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর কাউকে বিষয়টি জানালে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, মামলার আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না—বাদীর এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি/টিবি
জি বাংলা ডেস্ক