প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে অসময়ে তরমুজ চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন নীলফামারীর কৃষক ওমর আলী (৪৫)। সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের পূর্ব ডাঙাপাড়া এলাকায় তিন বিঘা জমিতে দুই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। মাচায় ঝুলে থাকা বাহারি রঙের তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই তাঁর জমিতে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষকসহ উৎসুক মানুষ। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে তরমুজ বিক্রি করে প্রায় ছয় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে সারি সারি মাচা তৈরি করে চাষ করা হয়েছে বিভিন্ন রঙের তরমুজ। মাচা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ, জিআই তার ও মোটা নেট। মাচার ওপর-নিচে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য ছোট-বড় তরমুজ। কোনোটি হলুদ, কোনোটি হলুদ-সবুজ ডোরাকাটা, আবার কোনোটি কালচে সবুজ রঙের। প্রতিটি তরমুজ জালের ব্যাগে রাখা হয়েছে। দূর থেকে মাচায় ঝুলে থাকা ফলগুলোকে লাউ বা কুমড়া মনে হলেও কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো বাহারি জাতের তরমুজ।
কৃষক ওমর আলী জানান, আগে ওই জমিতে শসা চাষ করতেন তিনি। শসার ফলনও ভালো হতো। একদিন ইউটিউবে তরমুজ চাষের একটি ভিডিও দেখে এ ফসল চাষে আগ্রহী হন। পরে তরমুজ চাষের পদ্ধতি, উপযুক্ত সময় ও বীজ সংগ্রহের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এরপর ঢাকার একটি বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই জাতের বীজ সংগ্রহ করেন। সেই বীজ থেকে তৈরি চারা দিয়ে এবার তিন বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেন তিনি।
ওমর আলী বলেন, তাঁর তিন বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘায় ‘কিং সুগার’ এবং এক বিঘায় ‘সূর্য ডিম’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। দুই জাত মিলিয়ে জমিতে রয়েছে প্রায় ছয় হাজার তরমুজগাছ। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স প্রায় ৬০ দিন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৭০ দিনের মধ্যে তরমুজ সংগ্রহ করে বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
তরমুজ চাষে নিজের বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য লাভের হিসাব তুলে ধরে ওমর আলী বলেন, তিন বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ পড়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। ছয় হাজার তরমুজের জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে ছয় হাজার জালের ব্যাগ। প্রতিটি তরমুজের গড় ওজন তিন কেজি হলে মোট উৎপাদন হতে পারে প্রায় ১৮ হাজার কেজি। প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে মোট বিক্রি হবে প্রায় নয় লাখ টাকা। সে হিসাবে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
তরমুজ চাষের সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ফল পচে যাওয়া এ চাষের অন্যতম বড় সমস্যা। এ সমস্যা এড়াতে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করতে হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্প্রে করতে হয়। সার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত সার প্রয়োগে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতিটি বিষয়ে নজর রাখা ও সঠিক পরিচর্যা জরুরি।
উৎপাদিত তরমুজ বিক্রির জন্য আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওমর আলী। তিনি জানান, ঢাকার কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। তাঁরা এসে তরমুজের অবস্থা দেখে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করবেন। ভালো লাভ হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
স্থানীয় কৃষক জগদীশ রায় বলেন, আগে এসব জমিতে ভুট্টা, গম, পাট ও ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হতো। কিন্তু এবার ওমর আলী জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এসব তরমুজ দেখতে সাধারণ তরমুজের চেয়ে আলাদা। ফলনও ভালো হয়েছে। তাই তিনিও তরমুজ চাষের কথা ভাবছেন।
একই এলাকার কৃষক জুয়েল বলেন, তাঁদের এলাকায় মাচায় তরমুজ চাষ হতে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। তাঁর জানা ছিল, তরমুজ মাটিতে ফলে; মাচায়ও যে তরমুজ চাষ করা যায়, তা আগে জানতেন না। ফলন দেখে তাঁরাও এ ধরনের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতার বিষয়ে ওমর আলী বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর তরমুজখেত পরিদর্শন করেছেন। তবে নতুন জাতের তরমুজ চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, কৃষক ওমর আলী অসময়ে দুই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারে এ তর
জি বাংলা ডেস্ক