প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকার একটি হলরুমে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “আগামী ২০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীতে আসবেন। তিনি ধর্মসভা পরিদর্শনসহ পাট ও আখচাষিদের মধ্যে অর্থ বিতরণ করবেন। একটি বিশাল জনসভার মাধ্যমে তিনি এই অর্থ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো কোনো রাষ্ট্রপ্রধান ঢাকার বাইরে কোনো মন্দির পরিদর্শন করেননি। এই প্রথম জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা করছেন। এর মাধ্যমে তিনি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন। শুধু রাজশাহীতে নয়, তিনি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং চট্টগ্রামেও মন্দির পরিদর্শন করবেন।”
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে মিজানুর রহমান মিনু জানান, “প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এবং তাঁর কাছাকাছি থাকার জন্য নির্দিষ্টভাবে কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ড ছাড়া কেউ তাঁর কাছাকাছি যেতে পারবেন না।”
কৃষি খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, “দেশের পাট, ইক্ষু এবং রেশম (সেরিকালচার) চাষিরা একসময় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। এ দেশের মাটির সন্তান হিসেবে তারেক রহমান তাঁদের পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে ১৫টি পাটকল চালু হয়েছে। তিনি বিভিন্ন স্থানে পাট উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। পাট আগামীতে সোনালি আঁশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বিকশিত করবে।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “অবিভক্ত বাংলায় কলকাতা যখন রাজধানী ছিল, তখন রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ার চিনি কলকাতায় যেত। প্রধানমন্ত্রী সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। মূলত কৃষকদের নিয়েই এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে, তাই সভায় কৃষকদের উপস্থিতিই বেশি থাকবে।”
ধর্মসভা পরিদর্শনের সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে বলে উল্লেখ করে সমাবেশটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে রাজশাহী জেলা ও মহানগরসহ পার্শ্ববর্তী জেলার সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন প্রধান অতিথি।
এ সময় উপস্থিত নেতারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শারমীন ফারজানা পুতুল, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন-অর-রশিদ।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সুরুজ, রাজশাহী জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম মার্শাল এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু ও আবু বক্কর সিদ্দিক।
মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকার, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, শফিকুল ইসলাম শাফিক, জয়নুল আবেদীন শিবলী ও আলী আশরাফ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম মিলু, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুস সামাদ, সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, রায়হানুল আলম রায়হান, রোকনুজ্জামান আলম, কামরুজ্জামান হেনা এবং বিএনপি নেতা মাইনুল হক পান্না।
জি বাংলা ডেস্ক