ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার খুলনা ও মোংলা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভালো মানুষ প্রার্থী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, বাস থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীদের সেনাবাহিনীর এ্যাসল্ট কোর্স প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ৬৬ পদাতিক ডিভিশন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন জেলায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে লাহোরের মাস্টারপ্ল্যান আ.লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ৭টি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি পুকুরের মাছ বাড়ি নেওয়ার সময় খাদ্য কর্মকর্তা আটক বৈধ বিদেশি কর্মীর সংখ্যা জানাল মালয়েশিয়া চিকিৎসক সংকট নিরসন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ চিফ হুইপের চাঁদপুরে ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণা​, গ্রেফতার ৩ অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ভোট ব্যাংক ধরা ঠিক নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুবিচার সব ধর্মের মূল শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী

ধলেশ্বরীর ভাঙনে বিলীন কবরস্থান-বসতভিটা, হুমকিতে নানা স্থাপনা

  • আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ১০:৩২:২৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ১০:৩২:২৮ পূর্বাহ্ন
ধলেশ্বরীর ভাঙনে বিলীন কবরস্থান-বসতভিটা, হুমকিতে নানা স্থাপনা

মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও কবরস্থান। দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের লাউতারা গ্রামের একমাত্র কবরস্থানের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনে হারিয়ে গেছে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কবর। ঝুঁকিতে রয়েছে আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। শেষ সম্বলটুকু হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুরের যমুনা নদীর একটি শাখা থেকে উৎপত্তি হয়ে ধলেশ্বরী নদী জিয়নপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালীগঙ্গা নদীতে মিশেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ নদীতে ভাঙন চলায় লাউতারা গ্রামের বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

গ্রামটির প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের একমাত্র কবরস্থানটি ৪০ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। এরই মধ্যে নদীভাঙনে কবরস্থানের প্রায় অর্ধেক জায়গা বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, নদীতে হারিয়ে গেছে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কবর। অবশিষ্ট অংশেও ভাঙন অব্যাহত থাকায় পুরো কবরস্থান হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনে গ্রামের অনেক পরিবার দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত বসতভিটা হারিয়েছে। ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার পথে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষার উদ্বেগে দিন কাটছে তাঁদের। কবরস্থানের অংশবিশেষ নদীতে বিলীন হওয়ায় মৃত স্বজনদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে কবরস্থানের অবশিষ্ট অংশটুকুও নদীতে বিলীন হবে। এতে ভবিষ্যতে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য জায়গার সংকট দেখা দিতে পারে।

বিপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

লাউতারা এলাকার আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হলে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হবে। এ ছাড়া নদীভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্প, বসতভিটা ও আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

নদীভাঙনের শিকার গৃহবধূ রিনা বেগম বলেন, “১৫ দিন ধরে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তায় জিনিসপত্র নিয়ে পড়ে আছি। এখন আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। সব জমিজমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙতে ভাঙতে একেবারে শেষ মাথায় এসে ঠেকেছি। এখন আর যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহীদ মোল্লা বলেন, গত পাঁচ বছরে তিনবার তাঁর বাড়ি ভাঙনের শিকার হয়েছে। নদীভাঙনে আগের বাড়ি ছেড়ে অন্য পাশে বসতি গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন অন্য কোথাও যাওয়ার মতো জমি নেই বলে জানান তিনি।

শহীদ মোল্লা বলেন, “আশা করি, সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াবে। এখানে একটা বাঁধ নির্মাণ করে দিলে যে সামান্য জায়গাটুকু আছে, সেখানে অন্তত বসবাস করতে পারতাম।”

আরেক বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, নদীতে তাঁর দুই বিঘা জমি বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিরাঞ্জন কুমার সরকার বলেন, নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নদী পারাপারেও সমস্যা হচ্ছে। এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হলেও শিক্ষার প্রতি তাঁদের আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হলে এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শুষ্ক মৌসুমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতি খুব বেশি বিপজ্জনক নয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও জরিপের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে শুষ্ক মৌসুমে ভাঙনকবলিত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ সদস্য দগ্ধ

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ সদস্য দগ্ধ