রাজধানীর ভাটারা থানার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তরা বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়েও আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ডিবির দাবি, সেখানে ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক ও নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চলত। অভিযানে মদ, গাঁজা, ইয়াবা, কনডম ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও রয়েছেন।
ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির যুগান্তরকে বলেন, বাড়িটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তরুণ-তরুণীরা ডিজে পার্টির নামে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল।
ডিসি জানান, বাড়িটিতে পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। অনলাইনে বুকিংয়ের মাধ্যমে কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়া হতো। একেকটি কক্ষ প্রায় ১০ জন মিলে ভাড়া নিতেন। অতিরিক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নিবন্ধন ফি নেওয়া হতো বলে তিনি জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পার্টি দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত চলত। মাসে ১৮ থেকে ২০টি আয়োজন হতো এবং প্রতিটি আয়োজন থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়া পাওয়া যেত বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।
অনলাইনে ভাড়া, আয় যেত মালিকের অ্যাকাউন্টে
তিনতলা বাড়িটি সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো। বাড়িটি দেখাশোনার জন্য মাহবুব আলম নামের একজনকে কো-হোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আল জহির। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ি ভাড়া থেকে পাওয়া আয়ের ৭০ শতাংশ তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হতো।
ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জহির যুগান্তরকে বলেন, তিনি অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দিতেন এবং ভাড়াটেদের জন্য কিছু কঠোর নিয়মও ছিল। কেউ বাড়িটি ভাড়া নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার দায় তিনি এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে অসৎ উদ্দেশ্যে বাড়িটি ভাড়া দেননি বলে দাবি করেন।
আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, এবার ভাড়াটেরা জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বাড়িটি নিয়েছিলেন। তাঁরা মদ আনবেন বা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড করবেন, তা তিনি জানতেন না।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জি বাংলা ডেস্ক