চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ছিনতাই হওয়া চিনিবোঝাই কাভার্ডভ্যানের ঘটনায় তদন্তের সূত্র ধরে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজারে অভিযান চালিয়ে ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পটিয়া থানা পুলিশ ও আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে এসব চিনি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের জন্য ২৮ টন চিনি নিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকার একটি কারখানায় ১৩ টন চিনি খালাস করা হয়। এরপর অবশিষ্ট ১৫ টন চিনি নিয়ে কাভার্ডভ্যানটির পটিয়ার ফুলকলি কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল।
তবে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার মনসা বাদামতল এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানের চালক আলমগীরকে (৪৫) অচেতন ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন অন্য চালকেরা। পরে তাঁকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চালকের দাবি, তাঁকে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে অচেতন করা হয়েছিল। ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানে থাকা চিনির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া কাভার্ডভ্যানটির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ছিনতাই হওয়া চিনি উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আজিজনগর বাজারের কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, তাঁদের অভিযান চলমান রয়েছে। আপাতত বান্দরবান থেকে কিছু চিনি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি চিনিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ছিনতাই ও চোরাই পণ্যের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জি বাংলা ডেস্ক