ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী আমাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন: ইশরাক লাকসামে কর্ণফুলী ট্রেনের ৩ বগি লাইনচ্যুত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি ও অস্তিত্ব: রাষ্ট্রপতি বৃহস্পতিবার খুলনা ও মোংলা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভালো মানুষ প্রার্থী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, বাস থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীদের সেনাবাহিনীর এ্যাসল্ট কোর্স প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ৬৬ পদাতিক ডিভিশন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন জেলায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে লাহোরের মাস্টারপ্ল্যান আ.লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ৭টি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি পুকুরের মাছ বাড়ি নেওয়ার সময় খাদ্য কর্মকর্তা আটক বৈধ বিদেশি কর্মীর সংখ্যা জানাল মালয়েশিয়া চিকিৎসক সংকট নিরসন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ চিফ হুইপের চাঁদপুরে ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণা​, গ্রেফতার ৩

সৌদিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা আছে

  • আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:৪২:১৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:৪২:১৮ পূর্বাহ্ন
সৌদিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা আছে

সৌদি আরবে এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরের পর দেশটিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারী জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে গেলেও তাঁদের একটি অংশ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতন না পাওয়া এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে দেশে ফিরছেন। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে নারী কর্মীদের সুরক্ষায় বিদ্যমান চুক্তি, আইন ও তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক লাখ ৭২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার গেছেন সৌদি আরবে। নারী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এরপর রয়েছে জর্ডান, যদিও সেখানে যাওয়া নারীর সংখ্যা সৌদি আরবের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি নারী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক হাজার ফিরেছেন সৌদি আরব থেকে। তবে ফিরে আসা নারী কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন বলে জানিয়েছে তাঁদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম—ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম বলেন, বিদেশ থেকে প্রতি বছর কত নারী কর্মী বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে আসেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। গত বছরের জুলাইয়ে দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীদের নিয়ে পরিচালিত ওকাপের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁদের ৯০ শতাংশ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে দেশে ফিরেছেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহের মতে, প্রায় এক দশক আগে দুই দেশের মধ্যে গৃহকর্মী নিয়োগ নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে নারী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়গুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

আইনে সংস্কার হলেও নির্যাতনের অভিযোগ

সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে শ্রম আইনে বিভিন্ন সংস্কার আনা হয়েছে। এসব সংস্কারের লক্ষ্য হিসেবে চাকরি পরিবর্তন ও চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।

সৌদি প্রেস এজেন্সির ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহকর্মী ও সমপর্যায়ের কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করেছে দেশটির সরকার। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, নিয়োগকর্তারা কর্মীদের চুক্তিতে উল্লেখ নেই—এমন কাজ করতে বাধ্য করতে পারবেন না। তৃতীয় পক্ষের হয়ে কাজ করানো এবং কর্মীর স্বাস্থ্য, শারীরিক নিরাপত্তা বা মর্যাদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করাও নিষিদ্ধ।

তবে এসব বিধান থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

গৃহকর্মী হিসেবে বাংলাদেশি নারীদের সৌদি আরবে যাওয়ার শুরুর সুনির্দিষ্ট সরকারি তথ্য সহজলভ্য নয়। তবে কয়েকটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই থেকে আড়াই দশক ধরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি নারী সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সৌদি আরবের তৎকালীন মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী আহমেদ আল-রাজহি এবং বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাধারণ শ্রমিক নিয়োগসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা, যাতে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং তাঁদের চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয়।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠানো শুরু হয়। এরপর থেকে ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক দেশটিতে কাজ করেছেন। সৌদি আরব বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস।

গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি ও বেতন নিয়ে অভিযোগ

২০১০-এর দশকের শুরুতে সৌদি আরব থেকে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মীর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে দেশে ফেরার ঘটনা আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে গৃহকর্মী নিয়োগ নিয়ে চুক্তি হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, দুই বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া নারী গৃহকর্মীদের মাসিক বেতন সৌদি মুদ্রায় ৮০০ রিয়াল নির্ধারণের কথা ছিল। পাশাপাশি তাঁদের বিনা খরচে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়।

তবে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, অনেক নারী তাঁদের প্রাপ্য বেতন পাননি। বেতন চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং একপর্যায়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশিক্ষণ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা কমছে না কেন—এ প্রশ্নে রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রগুলো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার ঘাটতিকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, গৃহকর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তিতে কর্মীদের সুবিধা ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথভাবে রাখা হয়নি। একই সঙ্গে নিয়োগকারী এজেন্সিগুলো গ্রামাঞ্চল থেকে নারীদের এনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই সৌদি আরবে পাঠাতে শুরু করে। এতে অনেক নারী সেখানে গিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়েন।

মসিহের ভাষ্য, নির্যাতনের শিকার নারীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সৌদি আরবে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা সেফ হোম চালু করা হয়েছিল। একপর্যায়ে সেখানে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি নারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

তাঁর মতে, নারী কর্মীদের সৌদি আরবে পাঠানোর আগে তাঁদের কাজের ধরন, সুযোগ-সুবিধা এবং গৃহস্থালির আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোর কারণে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

মসিহ আরও বলেন, ফিলিপিন্সের নারী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার বাসার বাইরে ডরমিটরিতে থাকার যে ব্যবস্থা রয়েছে, বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও তা চালুর চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্যাতনের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া ২০১১ সালের আগস্টে সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করার পর দেশটি ফিলিপিন্স, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল থেকে কর্মী নিয়োগে বেশি গুরুত্ব দেয়। নেপাল ও শ্রীলঙ্কা মাসে এক হাজার ৭০০ রিয়ালের কম বেতনে কর্মী পাঠাতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, ফিলিপিন্সের সঙ্গে নারী কর্মীদের আবাসন ও নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে আলাদা সমঝোতা হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম বেতনে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিতে সম্মত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের আগস্টে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। সে সময় সৌদি শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশি কর্মীদের অভিযোগ এবং দ্রুত দেশে ফেরার প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।

মসিহ বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তখন প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতিকে সমস্যার কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল। বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে আগেই ধারণা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

অন্য দেশের নারী কর্মীদের অভিজ্ঞতাও উদ্বেগজনক

চলতি বছরের ৯ জুলাই প্রকাশিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে সৌদি আরবে ফিলিপিন্সের নারী কর্মীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত কাজ করানো, শোষণ, মর্যাদাহানিকর আচরণ এবং কিছু ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়ন।

‘একবার যখন তাদের বাড়িতে ঢুকি, তারপর আমরা আর মানুষ থাকি না’—শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে ১৯ জন ভুক্তভোগী নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে ফিরে গেছেন।

নারী কর্মী পাঠানো নিয়ে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতাও উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৮ সালে কুয়েতে নির্যাতনের শিকার এক নেপালি গৃহকর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা দেশটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর পর নেপাল সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে নারী কর্মী পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও সৌদি আরবে নেপালি নারী গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমঝোতা হয়নি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেপাল ও সৌদি আরবের মধ্যে সাধারণ কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় একটি চুক্তি সই হয়। তবে নারী গৃহকর্মীদের বিষয়ে আলাদা সমঝোতা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এরপরও বিকল্প পথে নেপালি নারীদের সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গৃহকর্মীদের উচ্চ বেতন, উন্নত জীবনযাত্রার মান এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠাতে আগ্রহী নয় বলেও ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি সরকারের বক্তব্য

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না এলেও ফিলিপিন্সের নারী কর্মীদের নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে সৌদি সরকারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

সৌদি সরকারের দাবি, দেশটির বিদ্যমান বিধিবিধানের আওতায় গৃহকর্মীরা সুরক্ষিত এবং নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করা হয়। গৃহকর্মীদের সুরক্ষা জোরদারে মানসম্মত কর্মচুক্তি, মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা, বিমা কর্মসূচি, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং নির্যাতন বা বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছে দেশটি।

তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি সৌদি সরকার। গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় নেওয়া সংস্কার ও অন্যান্য পদক্ষেপ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।

ফলে আইন ও চুক্তিতে সুরক্ষার বিধান থাকলেও সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার তদারকি, অভিযোগের কার্যকর তদন্ত এবং চুক্তিতে নির্ধারিত অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রী আমাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন: ইশরাক

প্রধানমন্ত্রী আমাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন: ইশরাক