অনুমোদনহীন ঋণদাতা অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে এসব সেবা সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব অ্যাপের মাধ্যমে ঋণের অর্থ লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চ সুদে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৃথক চিঠি দিয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে অনুমোদনহীন ঋণদাতা অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব অ্যাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অনলাইনে পরিচালিত কিছু মোবাইল অ্যাপ উচ্চ সুদে ঋণ দিচ্ছে। এসব অ্যাপ ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার পর গ্রাহকেরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অজান্তেই এসব অ্যাপ মোবাইল ফোনের যোগাযোগ নম্বর, ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য, ছবি, ভিডিও এবং খুদে বার্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেরি বা ব্যর্থ হলে এসব তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এর মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অনুমোদন ছাড়া ঋণ কার্যক্রম অবৈধ
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০২৪ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগ সংগ্রহ, ঋণ দেওয়া, অর্থ সংরক্ষণ বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত কোনো অনলাইন বা অফলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা যায় না। অথচ চিহ্নিত কিছু অ্যাপ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে এসব কার্যক্রম অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এসব অবৈধ ঋণের অর্থ লেনদেনে সহায়তা করা ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও অপরাধের সঙ্গে জড়িত হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই চিহ্নিত অ্যাপ পরিচালনাকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট সেবা অবিলম্বে বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করে। একই সঙ্গে সংস্থাটি ৩১টি অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপের নাম প্রকাশ করে।
প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
জি বাংলা ডেস্ক