হার্ট অ্যাটাক মানেই বুকে তীব্র ব্যথা—এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রে বুকের তীব্র ব্যথা ছাড়াও হৃদ্যন্ত্রের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গকে গ্যাস, অম্বল, মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে চিকিৎসা নিতে দেরি হতে পারে।
মেরিল্যান্ডের চিকিৎসক কুণাল সুদ নারীদের হার্ট অ্যাটাকের চারটি লক্ষণের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো অনেক সময় সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। তিনি অ্যানেসথেশিয়োলজিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
চিকিৎসকের মতে, হার্ট অ্যাটাক সব সময় তীব্র বা নাটকীয় উপসর্গ দিয়ে শুরু হয় না। কখনো তুলনামূলক হালকা বা সাধারণ মনে হওয়া কিছু লক্ষণের মাধ্যমেও এর শুরু হতে পারে। তাই হঠাৎ শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
প্রথম লক্ষণ হলো বুকে চাপ বা অস্বস্তি। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, চেপে ধরার মতো অনুভূতি বা অস্বস্তি হতে পারে। ব্যথা সব সময় তীব্র নাও হতে পারে। অনেকেই এমন উপসর্গকে গ্যাস বা অম্বল ভেবে অবহেলা করেন।
দ্বিতীয়ত, ব্যথা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমন নয়। এক বা দুই হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটেও ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। হঠাৎ এসব জায়গায় অস্বাভাবিক ব্যথা বা চাপের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
তৃতীয় লক্ষণ হলো হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া হার্ট অ্যাটাকের সংকেত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বুকে অস্বস্তি থাকতে পারে, আবার বুকের ব্যথা ছাড়াও শুধু শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
চতুর্থত, বমি ভাব, বমি, অতিরিক্ত ঘাম, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা মাথা হালকা লাগার মতো উপসর্গও হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ অনেক সময় ফ্লু, অম্বল, মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ সব সময় একই ধরনের নাও হতে পারে। তাই শুধু বুকে তীব্র ব্যথার অপেক্ষায় থাকা ঠিক নয়। আচমকা বুকে চাপ বা অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব বা মাথা ঘোরা—বিশেষ করে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত।
জি বাংলা ডেস্ক