ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার সময় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের একাংশ অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। একই সময়ে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন কয়েক শ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহু মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের একাংশ তাকে উদ্দেশ করে দুয়ো দিতে শুরু করেন। পরে কয়েক ডজন প্রতিনিধি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। বিপরীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অধিবেশনের সভাপতি বারবার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে নেতানিয়াহু ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা এখনো কক্ষে আছেন, তারাও চাইলে বেরিয়ে যেতে পারেন।
এএফপির হাতে আসা একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর ভাষণ যৌথভাবে বর্জন ও ওয়াকআউটের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিল ফিলিস্তিন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একাংশ অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেন।
নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের কাছেও কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের অনেকে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত সফরে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো বৈঠকের কর্মসূচি ছিল না। তবে ভাষণে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করে যাব। আমরা জয়ী হতে থাকব; কারণ, আমাদের আর কোনো পথ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্বরদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো অংশীদার আমরা পাইনি। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। তার সাহসী নেতৃত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ।’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক