চীনের এক নারী ২০ বছরের বেশি সময় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার পর তিন বছর আগে পেশা ছেড়ে শুরু করেন ভাপা বান বিক্রির ব্যবসা। সময়ের সঙ্গে তার সেই ব্যবসা সফল হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি দ্বিতীয় শাখাও খুলেছেন।
৪৮ বছর বয়সী দং মিন ২০২৩ সালে হুবেই প্রদেশের উহানে ভাপা বান বিক্রির দোকান খোলেন। এর আগে প্রায় দুই দশক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। চাংজিয়াং ডেইলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দং বলেন, চিকিৎসক থাকার সময় প্রায়ই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা মনে হতো। এখন দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেও তিনি মানসিকভাবে বেশি স্বস্তিতে আছেন।
১৯৯৯ সালে উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে শেনঝেনে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন দং। কয়েক বছর পর উহানে ফিরে মায়ের বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। মা অবসর নেওয়ার পর ক্লিনিকটি বন্ধ হয়ে গেলে তারা হুবেইয়ের তিয়েনমেনে নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে যান। সেখানে একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসক ও আইনি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন দং।
দং জানান, চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার সময় রোগী দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাতে হতো। সরকারি সংস্থার পরিদর্শন, রোগী-হাসপাতাল বিরোধসহ নানা বিষয় তাকে মানসিক চাপে রাখত। বিশেষ করে হাসপাতালের আইনি প্রতিনিধি হিসেবে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিরোধের দায়ও তার ওপর পড়ত।
২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের ভাপা বান বিক্রির ব্যবসা দেখে এ কাজে আগ্রহী হন দং। শুরুতে একটি দোকানে বিনিয়োগ করেন। পরে দোকানের রাঁধুনি চাকরি ছেড়ে দিলে নিজেই বান তৈরি শেখেন। অল্প সময়ের মধ্যেই কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক পেশা ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন।
দংয়ের এ সিদ্ধান্তে শুরুতে পরিবার আপত্তি জানিয়েছিল। চীনে চিকিৎসক পেশাকে ঐতিহ্যগতভাবে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। তবে দং বলেন, বয়স প্রায় ৫০ হওয়ার পর অন্যরা তাকে কীভাবে দেখছে, সেটি নিয়ে তিনি আর ভাবতে চান না। নিজের পছন্দের জীবন যাপন করতেই তিনি ব্যবসা বেছে নিয়েছেন।
পরে তার মা ও ভাইও সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করেন এবং মাঝে মাঝে দোকানের কাজে সহযোগিতা করেন। দং বলেন, জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য কখনোই দেরি হয় না। যতদিন শারীরিকভাবে সক্ষম থাকবেন, ততদিন ভাপা বান বিক্রির ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান তিনি।
চীনে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দংয়ের ঘটনাকে সেই প্রবণতার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৪ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউউ শহরের একটি বড় হাসপাতালে ১৩ বছর ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে রাস্তার পাশে খাবারের দোকান দেন। তার দাবি, নতুন ব্যবসা থেকে তিনি আগের চাকরির তুলনায় বেশি আয় করছেন।
চীনের চিকিৎসকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি কমিউনিটি ‘শিং লিন ইউয়ান কমিউনিটি’ বলেছে, চিকিৎসকদের ক্লান্তি শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। তাদের মতে, চিকিৎসকদের চিকিৎসার বাইরের নানা দায়িত্ব, রোগীর অভিযোগের ঝুঁকি ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার চাপ সামলাতে হয়, অথচ দীর্ঘ শিক্ষা ও পরিশ্রমের তুলনায় অনেকের আয় পর্যাপ্ত নয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক