গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি বন্দরে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুত ও বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর ১৫০ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে কামারজানি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কামারজানি বন্দরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস শাহাদাত ফাহিমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানটি চালায়।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত সানোয়ার মুন্সী কামারজানি বন্দরের একজন কীটনাশক ব্যবসায়ী। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার গুদামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অনুমোদন ছাড়া বাইরে থেকে সার এনে মজুত ও বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। অভিযানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযান চলাকালে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সময় টিভির গাইবান্ধা প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলাম ও ক্যামেরাপারসন সোহেল রানাকে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে ধরেন এবং ধাক্কাধাক্কির পাশাপাশি তাদের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে দেখা যায়।
সদর কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল আলম বলেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে বাইরে থেকে অবৈধভাবে সার আনার অভিযোগে ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার গুদামে থাকা ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হেনস্তার সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর কোনো হামলা হয়নি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস শাহাদাত ফাহিম বলেন, অননুমোদিত ব্যবসায়ী হিসেবে বিপুল পরিমাণ সার মজুত ও বিক্রির দায়ে ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে এবং সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জি বাংলা ডেস্ক