ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিজিটাল অর্থনীতি গড়তে বাংলা কিউআর কোড ভিত্তিক লেনদেনে চার্জ লাগবে না ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী, অংশ নেবেন যেসব কর্মসূচিতে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শার্শায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ২৬ স্বর্ণের বার উদ্ধার, আটক ১ যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাব, জবাব দিল যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন ফুলবাড়ী সীমান্তে ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার ভারতীয় মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দ বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি মিরপুরের সংঘর্ষে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের বিএনপিকে হেয় করতে সার সংকটের আন্দোলন করা হয়েছে: শাহে আলম ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে অর্থ গ্রহণ, লিবিয়ায় আটক ও মুক্তিপণ দাবি: সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ১ মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিনাজপুরে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ মিরপুরে উচ্ছেদ চলমান থাকবে, ফ্যাসিবাদের দোসররা হামলা করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক সরকারকে দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই : চিফ হুইপ প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আজ ল্যাপটপ চুরি করে বহিষ্কার হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: রাশেদ খান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা আজ, লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ

ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটেন, গাছের মগডালে উঠে সংসার চালান একরামুল

  • আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ১০:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ১০:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন
ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটেন, গাছের মগডালে উঠে সংসার চালান একরামুল

ক্র্যাচে ভর দিয়েও ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না একরামুল হক। একটি পা প্রায় অচল, অন্য পাটিও দুর্বল। অথচ জীবিকার তাগিদে সেই একরামুলই উঠে যান গাছের মগডালে। এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফিয়ে লাফিয়ে কাটেন ডালপালা। ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজ করেই চলে তার সংসার।

৩৩ বছর বয়সি একরামুল হকের বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার দক্ষিণ মধামোদন এলাকায়। ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি গাছের ডালপালা কাটার কাজ করছেন। এ কাজ করে মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এ আয় দিয়েই স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করেন। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকেও কিছু সহায়তা পান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অন্য শিশুদের মতোই স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিয়েছিলেন একরামুল। কিন্তু মাত্র তিন বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে তার একটি পায়ের কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। অন্য পাটিও অনেকটা দুর্বল। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কারও কাছে হাত না পেতে নিজের কর্মসংস্থানের পথ বেছে নিয়েছেন একরামুল। সারাদিন ক্র্যাচে ভর দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে দেখেন কোথায় গাছের ডালপালা কাটার কাজ পাওয়া যাবে। কাজ ঠিক হলে ক্র্যাচ রেখে গাছে উঠে পড়েন। মুহূর্তেই উঠে যান গাছের মগডালে। কখনো এক গাছ থেকে আরেক গাছেও লাফিয়ে চলে যান।

একরামুলের গাছে ওঠা-নামার দৃশ্য আশপাশের মানুষের জন্য যেমন বিস্ময়ের, তেমনি উদ্বেগেরও। স্থানীয়রা জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও গাছে ওঠার সময় তার মধ্যে কোনো ভয় দেখা যায় না।

স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, তিন ভাই ও এক বোন নিয়ে একরামুলের পরিবার। দুই ভাইয়ের আলাদা সংসার। বোনের বিয়ে হলেও তার সংসার টেকেনি। ফলে পরিবারের ছয় সদস্যের দায়িত্ব একরামুলের কাঁধে।

একরামুলের বাবা আবদুল করিম বলেন, ছেলে ছোটবেলায় পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী হয়েছে। পরে তিনি ছেলেকে বলেছিলেন, ‘জীবনে পাঁচজনের কাছে হাত পেতে খাওয়ার চেয়ে নিজের কাজ করে খাওয়া ভালো।’ এরপর একরামুল গাছে ওঠা শেখেন। এখন গাছ কাটার কাজ করেই সংসার চালান।

একরামুলের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, অনেক টাকা-পয়সা খরচ করেও ছেলেকে সুস্থ করতে পারেননি। চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ওপর ভরসা করে এখন সে গাছ কাটার কাজ করছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার জীবনের গতি থামিয়ে দিতে পারেনি। নিজের কর্মক্ষমতার ওপর ভর করে প্রতিদিন জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন একরামুল। তার স্বপ্ন, একদিন সংসারের অভাব ঘুচবে এবং সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করতে পারবেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
মিরপুরে উচ্ছেদে ভাঙচুর-আগুন : চার মামলায় আসামি ১০০০

মিরপুরে উচ্ছেদে ভাঙচুর-আগুন : চার মামলায় আসামি ১০০০