সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে কম আসায় বুধবার স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও পরে সেই ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখতে পারেনি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তায় মূল্যবান ধাতুটির বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫২ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়ায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৭০ ডলারে লেনদেন শেষ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আগস্টের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচারস (পিসিই) মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির এই তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা কমেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাবে, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৩৯ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার কমলে সুদনির্ভর সম্পদের তুলনায় স্বর্ণ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চলা আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় তেলের দামও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় জ্বালানির দাম বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফেডারেল রিজার্ভকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে বাজারে।
স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওয়ং বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি বন্ডের আগের লাভ কমে যাওয়ায় ধাতুর বাজার আবারও চাপের মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমলেও স্বর্ণের জন্য দিনটি ছিল হতাশাজনক।
শুধু স্বর্ণ নয়, সেপ্টেম্বর মাসে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রুপার দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের ১ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে স্বর্ণ, রুপা ও প্ল্যাটিনাম—তিন ধাতুই চলতি প্রান্তিকে সামগ্রিকভাবে দাম বাড়ার পথে রয়েছে।
জি বাংলা ডেস্ক