অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে হাফপ্যান্ট পরায় মেট্রো স্টেশনে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়েছেন কয়েকজন তরুণ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে ফার্মগেট স্টেশনে পুলিশের হেনস্তার শিকার হন সাজ্জাদ হোসেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শিরোনামে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয়। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের আহ্বান জানিয়ে খোলা ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ এবং ৮ হাজার ২০০ জন ‘ইন্টারেস্টেড’ জানিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে তিন তরুণ উপস্থিত হন। তারা হলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার ও রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান। তাদের মধ্যে সাগর ও মাহফুজুর হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন।
রানার সাগর মজুমদার বলেন, দৌড়ানোর সময় শর্টস পরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যজনক হওয়ায় তারা এটি ব্যবহার করেন। সাজ্জাদ হোসেনের মতো আর কেউ যেন পোশাকের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্যই তারা প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন রানার হিসেবে মেট্রোরেল বা অন্য কোথাও তিনিও একই ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের বার্তা দিতে চান তারা।
সকাল ৭টার পর সাগর ও মাহফুজুর ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি যাওয়ার টিকিট কেটে মেট্রোরেলে ওঠেন। পরে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে তারা চলে যান। রকিবুল তাদের সঙ্গে মেট্রোরেলে ওঠেননি।
এদিকে একই সময়ে ফার্মগেট স্টেশনের অন্য একটি ফটক দিয়ে আরও দুজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন বলে জানা গেছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গেলে সাজ্জাদ হোসেনকে ফার্মগেট স্টেশনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। তার পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচির আহ্বানে বলা হয়, মেট্রোরেলে পোশাকের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ থাকলে তা স্পষ্ট ও লিখিত নিয়মের মাধ্যমে জানানো উচিত। আয়োজকেরা কর্মসূচিটিকে কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, বরং হয়রানির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন।