ডায়েটে অতিরিক্ত ফল খেয়ে উল্টো ওজন আরও বাড়াচ্ছেন না-তো?

আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ১২:০১:২৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ১২:০১:২৯ অপরাহ্ন

ওজন কমানোর পরিকল্পনা শুরু করলে অনেকেই খাবারের তালিকায় ফলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। ফল ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যতালিকাগত ফাইবারের ভালো উৎস হওয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ফল স্বাস্থ্যকর বলেই ইচ্ছেমতো বেশি খেলে ওজন কমবে—বিষয়টি এমন নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল সাধারণত পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এবং অনেক প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় তুলনামূলক কম ক্যালরিযুক্ত। তবে ফলেও ক্যালরি ও প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ফল খেলে মোট ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন কমানোর পরিবর্তে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

ভারতের ফরিদাবাদের ফর্টিস এসকর্টস হাসপাতালের প্রধান ডায়েটিশিয়ান কিরণ দালালের মতে, ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। বিশেষ করে আম, কলা, আঙুর ও চিকুর মতো তুলনামূলক বেশি ক্যালরিযুক্ত ফল প্রচুর পরিমাণে খেলে দিনের মোট ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, সারাদিন ধরে বারবার ফল খাওয়া কিংবা শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার মনে করে একবারে অনেক বেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর মতে, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রতিদিন দুই থেকে তিন সার্ভিং গোটা ফল খাওয়া একটি সাধারণ নির্দেশনা হতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। ক্যালরির চাহিদা, শারীরিক পরিশ্রম এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর ফলের পরিমাণ নির্ভর করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ফল খাওয়ার পাশাপাশি কীভাবে এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ফলের জুসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। গোটা ফলে থাকা ফাইবার হজমের গতি ধীর করতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

ফল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য রাখা জরুরি। তুলনামূলক বেশি ফাইবার ও পানিযুক্ত ফল খেলে কম ক্যালরিতে বেশি পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এতে পেট ভরা অনুভূতি পাওয়াও সহজ হতে পারে।

ফলের সঙ্গে প্রোটিনের উৎস বা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখাও উপকারী হতে পারে। এতে খাবারটি আরও পরিপূর্ণ হয় এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে কী পরিমাণ ও কোন ধরনের খাবার উপযোগী হবে, তা ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।

সবশেষে, ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে শুধু ফলকে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করে সারাদিনে বারবার খাওয়া ঠিক নয়। বরং দিনের মোট খাদ্যতালিকা, খাবারের পরিমাণ, শারীরিক সক্রিয়তা এবং পুষ্টির ভারসাম্যের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিমিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই মূল বিষয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০