অক্টোবরে হংকং ও ম্যাকাও ছাড়া অন্যান্য গন্তব্যে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করেছে চীন। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত সুরক্ষিত রাখতে বেইজিং এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। এর ফলে ইতোমধ্যে সরবরাহ সংকটে থাকা এশিয়ার জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বড় রিফাইনারিগুলোকে অক্টোবর মাসে হংকং ও ম্যাকাও ছাড়া অন্য অঞ্চলে জ্বালানি রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোচায়না অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের চালান বাতিল করেছে। আরেক বড় রিফাইনার ঝেজিয়াং পেট্রোকেমিক্যালও ছুটির সপ্তাহে কোনো জ্বালানি রপ্তানি চালান নির্ধারণ করেনি।
চীনের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব এশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি আমদানিকারক দেশে পড়তে পারে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও জাপানের মতো দেশগুলো চীনের পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বিশেষ করে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনের রপ্তানি স্থগিতের খবরে এশিয়ার ডিজেল রিফাইনিং মার্জিন এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। অক্টোবরে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের চায়না এনার্জি রিসার্চ বিভাগের প্রধান মিচাল মেইদান বলেন, চীনা সরকারের অগ্রাধিকার এখন দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিরাপদ রাখা। দেশীয় মজুত পর্যাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সীমিত থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, চীন বর্তমানে জেট ফুয়েল, ডিজেল ও পেট্রোল রপ্তানি করে থাকে। এর মধ্যে ডিজেলের বাজারে প্রভাব বেশি হতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এ জ্বালানির সরবরাহ আগে থেকেই তুলনামূলক সংকুচিত।
রয়টার্স জানিয়েছে, চীন এর আগে মার্চে জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। পরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়। এখন আবার অভ্যন্তরীণ মজুতের দিকে নজর দিয়ে রপ্তানি সীমিত করা হয়েছে।
চীনের এ নিষেধাজ্ঞা কতদিন থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ৭ অক্টোবর দেশটির ছুটির পর রপ্তানির অনুমতি আবার দেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করতে পারে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত ও রিফাইনারিগুলোর উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহে চলমান বিভিন্ন বাধার মধ্যে চীনের রপ্তানি কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়ছে। তবে এর ফলে বাংলাদেশে সরাসরি কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে দেশের আমদানি উৎস, মজুত ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর।