‘সংগঠন হিসেবে শিবির যেসব কর্মকাণ্ডের দায় নিতে পারত না, তা করত আম্মার’

আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৮:১৮:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৮:১৮:৪৫ অপরাহ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে আসার পর ক্যাম্পাসে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ছাত্রসংগঠন অভিযোগ করেছে, ভবিষ্যৎ রাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে আম্মারকে ঘিরে রাজনৈতিক কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তবে ছাত্রশিবির বলছে, রাকসু নির্বাচনের এক মাসেরও বেশি আগে আম্মারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ্যে আসা তিনটি চিঠিতে আম্মারের বহিষ্কারের বিষয়টি উঠে আসে। শিবিরের চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়াসহ সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর ‘সাথী’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি সামনে আসার পর ক্যাম্পাসের কয়েকটি ছাত্রসংগঠন অভিযোগ করে, রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে আম্মারের জিএস নির্বাচিত হওয়া এবং ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীবের পরবর্তী সময়ে শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। তাদের দাবি, আম্মারকে বহিষ্কারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় সেই আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ অভিযোগ করেন, আম্মারকে শিবির থেকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছে আম্মারকে নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপনের অংশ হিসেবে এ ধরনের অবস্থান নেওয়া হতে পারে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের শাখা সভাপতি মেহেদী মারুফও বহিষ্কারের ঘটনাকে ‘লোকদেখানো’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, শিবির আনুষ্ঠানিকভাবে যেসব কাজের দায় নিতে পারে না, সেসব কাজ আম্মারকে দিয়ে করানো হয়েছে এবং এখন তাঁর সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্ক নেই—এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা চলছে।

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ বলেন, ‘শিবিরের একটি বর্ধিত ভার্সন’ হিসেবে আম্মারকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। সংগঠন হিসেবে শিবির যেসব কর্মকাণ্ডের দায় নিতে পারত না, সেগুলো আম্মারকে দিয়ে করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রশিবির। রাবি শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, আম্মার যদি সংগঠনের জনশক্তি হতেন বা ‘ডামি প্যানেল’-এর অংশ হতেন, তাহলে রাকসু নির্বাচনের এক মাসেরও বেশি আগে তাঁকে বহিষ্কার করা হতো না। তাঁদের কোনো ‘এ টিম’ বা ‘বি টিম’ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

মেহেদী হাসান আরও বলেন, বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রার্থী নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্যানেল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। রাকসু নির্বাচনের সময় মেহেদী সজীব শিবিরের দায়িত্বশীল ছিলেন না; পরে তিনি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দায়িত্ব পান বলেও দাবি করেন তিনি। নির্বাচনের সময় তাঁকে শিবিরের দায়িত্বশীল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো বক্তব্যও দেওয়া হয়নি বলে জানান মেহেদী হাসান।

২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন মেহেদী সজীব। নির্বাচনের পর মেহেদী সজীব শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে শিবিরের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়া, নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশাসহ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে পদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে আম্মার বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তৎকালীন উপাচার্যের পরামর্শে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের কাছে পৃষ্ঠপোষকতার প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে সেটিকে ‘চাঁদা চাওয়ার চিঠি’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শিবিরের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে আম্মার বলেন, তিনি কখনো সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গোপন করেননি। তবে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেওয়ার জন্যও শিবিরের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের ভাষ্য, অভিযোগ পাওয়ার পর আম্মারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাকসুতে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আম্মারের সঙ্গে শিবিরের রাকসু পদধারীদের দাপ্তরিক সমন্বয় ছিল, সেটিকে সাংগঠনিক সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০