মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়াতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৮:২৭:১৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৮:২৭:১৬ অপরাহ্ন

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ খাতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিরও বড় সুযোগ রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও গতিশীলভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগ ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম সভায় জেলার মৎস্য খাতের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক খামারি প্রয়োজনীয় তথ্য না জানায় উৎপাদন কম হয় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এতে মুনাফা না পেয়ে অনেক খামারি ব্যবসা থেকে সরে যান। মাছ চাষের ক্ষেত্রে পুকুরের আয়তন অনুযায়ী কত মাছ ছাড়া উচিত, কতটুকু খাবার দিতে হবে এবং পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ও ধারণক্ষমতার বিষয়গুলো খামারিদের জানানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা খামারিদের সঠিকভাবে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খরচও কমানো সম্ভব। এ জন্য কর্মকর্তাদের খামারিদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পোল্ট্রি খাতের বিষয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অনেক খামারি প্রয়োজন না থাকলেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে তাঁদের সচেতন করতে হবে। খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রাণীর প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার দেওয়ার বিষয়েও খামারিদের ধারণা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নতমানের ফিড নিশ্চিত করতে ফিড উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কোরবানির পশুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কোরবানির ঈদে দেশীয় খামারিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। তাঁর দাবি, অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকানোর উদ্যোগের ফলে দেশের চাহিদা দেশীয় গবাদিপশু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব হয়েছে এবং উদ্বৃত্তও ছিল।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি গরুর মাংস বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে আধুনিক মিট প্রসেসিং কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব কারখানায় প্রক্রিয়াজাত মাংস উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে নতুন করে ভেড়ার খামার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে একটি গয়াল খামার রয়েছে; সেখানেও উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে কর্মকর্তাদের কাজের গতি ও দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়ানো, খামারিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০