সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরেছে ৪২৩ প্রাণ, এক-তৃতীয়াংশ মোটরসাইকেলে

আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৬ ১২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৬ ১২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন

গত সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৭৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১৩৯ জনই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, যা মোট প্রাণহানির ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

রোববার (৪ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনাবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এ ছাড়া ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, যা মোট প্রাণহানির ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন ১৩৯ জন। বাসের যাত্রী নিহত হয়েছেন ২৬ জন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রলির আরোহী ১৯ জন এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ২১ জন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া থ্রি-হুইলার, অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনার যাত্রী নিহত হয়েছেন ৮৮ জন। নসিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্র ও টমটমের যাত্রী নিহত হয়েছেন ১৮ জন। বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ছয়জন।

সড়কভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে ১৭৮টি দুর্ঘটনা হয়েছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি দুর্ঘটনা বা ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ ঘটেছে। এ ছাড়া শহরের সড়কে ৬৩টি এবং গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। ৯৮টি ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৯টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কার ঘটনা এবং ৬১টি যানবাহনের পেছনে আঘাতের ঘটনা। অন্যান্য কারণে ঘটেছে ছয়টি দুর্ঘটনা।

সময়ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে—মোট দুর্ঘটনার ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। দুপুরে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ, বিকেলে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাতে ১৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ভোরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

মাসজুড়ে দুর্ঘটনায় ৬৯১টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৬২টি মোটরসাইকেল, ১২৯টি থ্রি-হুইলার, ১১৩টি বাস, ৯৩টি ট্রাক, ২৯টি কাভার্ডভ্যান, ১৭টি পিকআপ, ১২টি মাইক্রোবাস, ১৫টি প্রাইভেটকার, আটটি অ্যাম্বুলেন্স, পাঁচটি জিপ ও ৪৬টি অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে।

ঢাকা বিভাগে প্রাণহানি বেশি

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট দুর্ঘটনার ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং প্রাণহানির ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ঘটেছে।

খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৪২ ও ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং রাজশাহী বিভাগে ১২ দশমিক ২১ ও ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বরিশালে দুর্ঘটনার হার ৫ দশমিক ২০ শতাংশ ও প্রাণহানি ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। সিলেটে এ হার যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫২ ও ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, রংপুরে ৫ দশমিক ৬৫ ও ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৭ দশমিক ২৩ ও ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।

সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে গাজীপুরে—৩৮ জন। রাজধানী ঢাকায় সেপ্টেম্বরে ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ৫৮ শিক্ষার্থী

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ২৪ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৫ জন স্থানীয় ব্যবসায়ী, ১৮ জন এনজিওকর্মী, ১৪ জন দিনমজুর এবং ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।

এ ছাড়া ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, পোশাকশ্রমিক ছয়জন, প্রকৌশলী চারজন, মোটর মেকানিক চারজন, সাংবাদিক তিনজন, মসজিদের ইমাম বা খাদেম তিনজন, পুলিশ সদস্য দুজন ও চিকিৎসক দুজন নিহত হয়েছেন। সেনা সদস্য, কাস্টমস কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী একজন করে এবং একজন বিদেশি নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

নৌ ও রেলপথেও প্রাণহানি

সেপ্টেম্বরে সড়কের পাশাপাশি নৌ ও রেলপথেও প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে ১১টি নৌদুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত ও চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির মতে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ঘটছে।

দুর্ঘটনা কমাতে গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে উল্লেখ করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণার সুপারিশ করেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এ ছাড়া চালকদের নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসাধারণের পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০