জনসম্মুখে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলে কি বিয়ে হয়ে যায়?

আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৬ ১২:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৬ ১২:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন

আল্লাহর রাসুল (সা.) যুবকদের বিয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা, তা চক্ষুকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (তাবরানি, হাদিস: ৯৭২)

বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তে অভিভাবকের অভিমতও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১১০১)

ইসলামে গোপন বিয়েকে উৎসাহিত করা হয়নি। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন প্রকাশ্যে সম্পন্ন করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে করবে ঘোষণা দিয়ে।’ (মুসনাদে আহমাদ, ৪/৫)

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে সহিহ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হওয়া এবং সাক্ষীর উপস্থিতি। ফিকহের বিধান অনুযায়ী, বিয়ের সময় ন্যূনতম দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী থাকা আবশ্যক।

বিখ্যাত ফকিহ আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) বলেন, বিয়ের মূল ভিত্তি হলো ইজাব ও কবুল। নির্দিষ্ট কিছু শব্দের মাধ্যমে অথবা সেসব শব্দের স্থলাভিষিক্ত কোনো পদ্ধতিতে তা সম্পন্ন হয়।

অন্যদিকে, শুধু পরস্পরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয় না। ফকিহ ইবনু নুজাইম (রহ.) বলেন, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য ইজাব ও কবুল প্রয়োজন। শুধু স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বিয়ে সংঘটিত হয় না।

অর্থাৎ, কোনো পুরুষ যদি সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কোনো নারীকে ‘আমার স্ত্রী’ এবং নিজেকে ‘তার স্বামী’ বলে দাবি করেন, আর নারীও তাকে ‘আমার স্বামী’ ও নিজেকে ‘তার স্ত্রী’ বলে স্বীকার করেন, তাতে তাদের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হবে না। কারণ, স্বীকারোক্তি সাধারণত আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয় প্রকাশ করে; এর মাধ্যমে নতুন বৈবাহিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না।

সুতরাং, পরিস্থিতির কারণে জনসম্মুখে কোনো নারী-পুরুষ একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও, তাদের মধ্যে শরিয়তসম্মত ইজাব-কবুল না হলে শুধু সাক্ষীদের সামনে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে বিয়ে সংঘটিত হবে না।

তবে বিয়ে বহির্ভূত নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে অবস্থান করা গুরুতর গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা জিনার কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীলতা এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৩২)

এ আয়াতে শুধু জিনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়নি; বরং জিনার কাছাকাছি যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাই জিনার দিকে নিয়ে যায় বা এর আশঙ্কা সৃষ্টি করে—এমন কাজ থেকেও বিরত থাকা জরুরি।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুই চোখের জিনা হলো (কামনার সঙ্গে) তাকানো, দুই কানের জিনা হলো (অবৈধ কথা) শোনা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, হাতের জিনা হলো স্পর্শ করা এবং পায়ের জিনা হলো (সেদিকে) হেঁটে যাওয়া। আর অন্তর কামনা করে ও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে; লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়িত করে অথবা করে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২৪৩)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো পুরুষ যখন কোনো গায়রে মাহরাম নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রিত হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৬৫)

সুতরাং, ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা এবং বৈধ উপায়ে বিয়ে সম্পন্ন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০