ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৬ ০৩:৫২:৫৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-১০-২০২৬ ০৩:৫২:৫৪ অপরাহ্ন

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার পর এক যুবককে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার, সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন। চক্রটি তাঁকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এ জন্য ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ভুক্তভোগী ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে পাসপোর্ট জমা দেন এবং অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। ৭ এপ্রিল তাঁকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি ও পরে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখে। পরে পূর্বের চুক্তির কথা বলে তাঁর কাছে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এরপর ভুক্তভোগীকে মিশর থেকে গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত পেরিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাঁকেসহ অন্যদের আটক করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

সিআইডি জানায়, পরবর্তী সময়ে লিবিয়া পুলিশ তাঁকে আটক করে ১৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি আতিকুর রহমান টমাস ও বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০