বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের গোয়ার পানাজির কাছে ডোনা পাওলা এলাকায় নিজ অ্যাপার্টমেন্টে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
ভোরে নিজ বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় নানা পাটেকরকে। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা জানানো হয়েছে।
১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকর প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। তীক্ষ্ণ অভিনয়শৈলী, শক্তিশালী সংলাপ উপস্থাপন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘সালাম বোম্বে’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা পান। গুরুগম্ভীর চরিত্রের পাশাপাশি কমেডি চরিত্রেও তিনি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) সিনেমায় ‘উদয় শেঠি’ চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান নানা পাটেকর। পরবর্তী সময়ে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ সিনেমাতেও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘হাউসফুল ৫’-এর মতো সিনেমাতেও তাকে দেখা গেছে।
২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’তেও অভিনয় করেন নানা পাটেকর। আর ২০১৬ সালে মারাঠি সিনেমা ‘নটসম্রাট’-এ তার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। সিনেমাটির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে নানা পাটেকর তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। চলচ্চিত্র ও শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাকে ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী দেওয়া হয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি নানা পাটেকর গানও গেয়েছেন। ‘যশোবন্ত’ (১৯৯৭), ‘ওয়াজুদ’ (১৯৯৮) এবং ‘আঁচ’ (২০০৩) সিনেমায় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তার কণ্ঠ শোনা গেছে।
মঞ্চ ও চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা পাটেকর নিজের আলাদা অভিনয়ভাষা তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অভিনেতা অক্ষয় কুমারসহ সহকর্মীরা তার অভিনয়জীবন ও স্বতন্ত্র প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।