তের ঘণ্টা পর মিলল কাপড়ে মোড়ানো হালিমার দেহ

আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ১০:৫৪:১১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ১০:৫৪:১১ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর হালিমা আক্তার নামে তিন বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিচিন্তা হিন্দু পাড়ার পাশে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের ঘরের আলনার পেছন থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিহত হালিমা ওই এলাকার নাছির উদ্দীন ও রাশেদা আক্তারের তিন সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমির মধ্যে একটি ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করত শিশুটি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টার দিকে নাশতা শেষে শিশুরা খেলতে চলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর হালিমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বাড়ির আশপাশের খাল, চাষের জমি ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীও শিশুটিকে খুঁজতে যোগ দেন।

এ সময় কয়েক দিন আগে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের পরিবারের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। ওই বিরোধের জেরে শিশুটিকে আটকে রাখা হয়েছে কি না, এমন সন্দেহ থেকে গ্রামবাসী তাঁদের বাড়িতেও খোঁজ করেন। তবে প্রথম দফায় শিশুটির সন্ধান মেলেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মসজিদের মাইকে শিশুটির নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়। জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন বাড়িতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে বাড়িটির আলনার পেছন থেকে হালিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি শিশুটির পরিবারের ঘর থেকে প্রায় ১৫০ ফুট পূর্বে অবস্থিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুটির মা রাশেদা আক্তার অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী পরিবারের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, শিশুটির শরীরে আঘাত ও ফুলে যাওয়ার চিহ্ন ছিল। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

স্থানীয় বাসিন্দা তাজু সওদাগর বলেন, বড়দের মধ্যে বিরোধ থাকলেও নিষ্পাপ শিশুটির কোনো দোষ ছিল না। এমন ঘটনার বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, হালিমা সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর আবদুল আউয়ালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আলনার পেছন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আবদুল আউয়াল, তাঁর মেয়ে আসমা ও ছেলে রবিউলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০