আম্বানির সমর্থকদের ‘যুক্তি হাস্যকর’, ইলন মাস্কের কটাক্ষ

আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ১১:৫৫:০৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ১১:৫৫:০৪ পূর্বাহ্ন

ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়টি নিয়ে রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বিরোধে নতুন করে সরব হয়েছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। আম্বানির সমর্থকদের ‘চরম ভণ্ডামি ও অতিরঞ্জিত বক্তব্যের’ অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, স্টারলিংককে ঘিরে তাঁদের যুক্তিগুলো পরস্পরবিরোধী।

রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, একদিকে আম্বানির সমর্থকেরা দাবি করছেন, ভারতে কম দামের ইন্টারনেট সেবার কারণে স্টারলিংক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। অন্যদিকে, তাঁরাই আবার বলছেন, স্টারলিংক বাজারে এলে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে। মাস্কের ভাষায়, এ ধরনের যুক্তি ‘হাস্যকর’ ও ‘ভণ্ডামিতে ভরা’। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মাস্কের মতে, স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম শুরু করলে সাধারণ গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। এতে আম্বানির ব্যবসার মুনাফা কিছুটা কমতে পারে, তবে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, ভারতে স্টারলিংকের সেবা যদি সত্যিই বেশি ব্যয়বহুল হয়, তাহলে গ্রাহকেরা তা কিনবেন না। সে ক্ষেত্রে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে স্পেসএক্সকে সেবার মূল্য সাশ্রয়ী করতে হবে।

ভারতের টেলিযোগাযোগ ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। তবে সেবাটি চালুর সময়সূচি ও বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে সম্প্রতি মাস্ক ও আম্বানির ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যকার বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।

ভারতের ইন্টারনেট বাজারে রিলায়েন্স জিওর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাতেও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

মাস্কের দাবি, ভারতের অনেক এলাকায় এখনো নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সুবিধা নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না। স্টারলিংকের সেবা এসব মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন মাস্ক। তাঁর মতে, প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লেও স্টারলিংক সংযোগ সচল রাখতে সক্ষম, যা জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

আম্বানিকে কটাক্ষ

স্টারলিংক নিয়ে বিরোধের মধ্যে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘প্রাইম মিনিস্টার আম্বানি’ বলে সম্বোধন করেন মাস্ক।

ওই পোস্টে তিনি বিদ্রূপের সুরে প্রশ্ন তোলেন, আম্বানি কি ভারতে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেবেন? একই সঙ্গে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে আম্বানি বা রিলায়েন্সের বিরুদ্ধে তাঁর এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।

এরপর শনিবার মাস্ক রিলায়েন্সের সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার কথিত যোগসূত্র নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন।

এর মধ্যে ২০২২ সালে আল জাজিরায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ছিল, যেখানে রিলায়েন্সের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেসবুকে বিজেপির প্রচারণা জোরদার করার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। এ ছাড়া, ২০২৪ সালে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত কুইক সাপ্লাই নামের রিলায়েন্স-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক অনুদান দেওয়ার প্রতিবেদনও শেয়ার করেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠান বিজেপিকে ৩৮৫ কোটি রুপি এবং শিবসেনাকে ২৫ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছিল। তবে এসব প্রতিবেদন শেয়ার করার বিষয়ে রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ে সরকারের বক্তব্য

স্টারলিংক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেছেন, দেশটিতে কোনো খাতেই একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয় না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে। সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক, রিলায়েন্স জিওর স্যাটেলাইট উদ্যোগ জিও স্যাটকম এবং ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব। লাইসেন্স পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করাও তাদের জন্য জরুরি।

সিন্ধিয়া বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের সামনে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সেবার বিকল্প তুলে ধরা। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেবেন, তা নির্ধারণ করবেন গ্রাহকেরাই।

অন্যদিকে, অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপারও ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে দেশটির বাজারে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০