ম্যানসিটি ফ্যানদের হাতে কলা উসকে দিল ৮০’র দশকের স্মৃতি

আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০১:৫৭:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০১:৫৭:৩২ অপরাহ্ন

লিভারপুলের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে হঠাৎ অনেক ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকের হাতে দেখা যায় ফুলানো কলা। প্রথম দেখায় এটিকে নিছক মজা মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে ক্লাবটির কঠিন সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক পুরোনো ইতিহাস।

দ্য মিররের তথ্য অনুযায়ী, ফ্র্যাঙ্ক নিউটন নামে এক ব্যক্তি প্রথম নকল কলা গ্যালারিতে নিয়ে আসেন। ঘটনাটি ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের। পুরোনো মেইন রোড স্টেডিয়ামে প্লিমাউথ আর্গাইলের বিপক্ষে সিটির ঘরের মাঠের ম্যাচ ছিল সেটি। তখন ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ থেকে অবনমিত হয়ে দ্বিতীয় স্তরে খেলছিল ম্যানচেস্টার সিটি।

এই ঘটনার পেছনে ছিল ক্লাবের প্রিয় তারকা ইমরে ভারাদির প্রতি সমর্থকদের শ্রদ্ধা। সিটির হয়ে ৮১ ম্যাচে ৩১ গোল করেছিলেন ভারাদি। এক সমর্থক তাঁকে ‘ইমরে বানানা’ নামে ডাকতেন। দল যখন মাঠে ভালো করতে পারছিল না, তখন সমর্থকেরা কালো রসিকতার আশ্রয় নেন। একঘেয়ে খেলা থেকে মনোযোগ সরাতেই শুরু হয় এই ব্যতিক্রমী কাণ্ড। প্রথমে ভারাদির নামে স্লোগান ওঠে, পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে কলা। কথিত আছে, ওই বছরের বক্সিং ডেতে স্টোক সিটির মাঠে সিটির খেলা দেখতে যাওয়া ১০ হাজার সমর্থকের সঙ্গেই ছিল নানা রকম কলা।

সেই সময় শুধু ম্যানচেস্টার নয়, গোটা ইংলিশ ফুটবলই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। জরাজীর্ণ স্টেডিয়াম, সমর্থকদের সহিংসতা এবং হুলিগানিজম ছিল বড় সমস্যা। ১৯৮৫ সালে হেইসেল স্টেডিয়াম দুর্ঘটনার পর ইংলিশ ক্লাবগুলোকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। লিভারপুল ও জুভেন্টাসের ইউরোপীয় কাপ ফাইনালে সমর্থকদের সহিংসতায় সেদিন ৩৯ জন নিহত হন। প্রচলিত আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, সেই হতাশার সময়ে সমর্থকদের মন ভালো করতেই সিটির গ্যালারিতে কলার আবির্ভাব ঘটে।

আশির দশক থেকে বিশেষ বিশেষ উপলক্ষে সিটির সমর্থকেরা বারবার কলা নিয়ে গ্যালারিতে হাজির হয়েছেন। লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয়ের দিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির পর সেটিই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। একই সঙ্গে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চলমান বিতর্কে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগও তৈরি হয়।

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ফুটবলবিশ্বে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ক্লাবকে দোষী সাব্যস্ত বলা যায় না। সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মাঠে সিটির তারকাখচিত দল নামার পর লিভারপুল সমর্থকেরা আর্লিং হালান্ড ও তাঁর সতীর্থদের দুয়ো দেন। ব্যানারেও সিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়। স্টেডিয়ামের বাইরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও গালাগাল ঘিরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সিটির দলের বাস আসার সময় লিভারপুল সমর্থকেরা স্লোগান দেন, ‘তোমরা প্রতারক, তোমরা ভালো করেই জানো তোমরা কী।’

ম্যানচেস্টার সিটি স্বাধীন কমিশনের কার্যক্রম ও অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে এবং প্রক্রিয়াটির বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এত অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যেও সিটির সমর্থকেরা ক্লাবের পাশে থাকার কথা জানাচ্ছেন। ওয়েসিস ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও সিটির একনিষ্ঠ ভক্ত নোয়েল গালাঘার দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছেন, দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা তাঁকে খুব একটা ভাবায় না।

গালাঘারের ভাষায়, ‘করুক যা খুশি। এই ক্লাবের সঙ্গে আমি এর চেয়েও খারাপ অবনমন দেখেছি, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। (...) এই ক্লাবকে যদি উগান্ডায় দর্শকশূন্য মাঠে হাজার ম্যাচ খেলতে হয়, আমি সেখানেও থাকব।’

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০