ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যাটম্যানের মুখোশ পরেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও দলটির নেতা রাহুল গান্ধী। তবে তাদের এই কৌশল কার্যকর হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতারা। তাদের অভিযোগ, তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার বিরোধী প্রচেষ্টার অংশ এই প্রতীকী প্রতিবাদ।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী নেতারা।
বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজন তরুণকে ব্যাটম্যানের মুখোশ পরে আসতে দেখা যায়। তাদের দেখে রাহুল গান্ধীও একটি মুখোশ নেন। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সুযোগ হিসেবে তিনি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বাসে যাত্রার সময় মুখোশটি পরেন। এমনকি প্রবীণ কংগ্রেস নেতাকেও মুখোশ পরতে সাহায্য করেন তিনি।
তবে বিজেপি নেতাদের মতে, এই প্রতীকী প্রতিবাদ বিরোধীদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেনি। তরুণদের বিভ্রান্ত করার যে চেষ্টা বিরোধীরা করছে বলে বিজেপির অভিযোগ, তার প্রেক্ষাপটে এই কৌশল কার্যকর হয়নি বলে দাবি তাদের।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী ও খাড়গিকে ব্যাটম্যান ও তার সহযোগী রবিনের সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করেন।
তিনি লেখেন, ‘দিল্লি গথাম নয়, আর আমাদের কোনো অন্ধকার সুপারহিরো ও রবিনের প্রয়োজন নেই।’
ব্যাটম্যানের কাল্পনিক জগতে গথাম সিটি অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে পরিচিত। সেই প্রসঙ্গ টেনেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মন্তব্যটি করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত আগস্টে ইনস্টাগ্রামে শিক্ষার্থী ও জেন-জি প্রজন্মের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি ব্যাটম্যান? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এটুকু বলা যায়, আমাকে আর ব্যাটম্যানকে কখনো একই ঘরে একসঙ্গে দেখা যায়নি।’
পরে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় কংগ্রেসের কার্যালয়গুলোতে রাহুল গান্ধীকে ‘বাস্তব জীবনের ব্যাটম্যান’ আখ্যা দিয়ে পোস্টারও দেখা যায়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি