এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের আচরণ ও অবস্থানের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না। তিনি এ অবস্থাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর পুরাতন পল্টনের বিজয়-৭১ চত্বরে এবি পার্টি আয়োজিত ‘বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপন্ন মানবতার ভোগান্তি ও দুর্ভোগ’ শীর্ষক গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু অবিলম্বে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে অতীতে বরাদ্দ অর্থের ব্যয়ের বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ বছরের পর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পায়নি। এসব অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে এবং এ জন্য কারা দায়ী—মেয়র, প্রশাসক, মন্ত্রী, সচিব বা ঠিকাদার—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি নয়, বরং কার্যকর সমাধানের রাজনীতি প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় করা ১৩ হাজার ৪ কোটি টাকা, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যয় হওয়া ৩৪৫ কোটি টাকা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা কীভাবে ব্যয় হবে, সে পরিকল্পনাও জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।
সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সমালোচনা করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, তাদের বক্তব্য ও আচরণে নমনীয়তার পরিবর্তে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে বারবার রাজপথে নামতে হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার প্রতিফলন। এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার বলেন, জনগণের দুর্ভোগ ও বাস্তব সমস্যার কথা জানতেই এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। সময়মতো খাল, নালা ও জলাধার সংস্কার করা হলে নগরবাসীকে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
গণশুনানিতে অংশ নিয়ে শ্রমিক নেতা শাহ আব্দুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণেই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির নেতা গাজী নাসির বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানী পানিতে তলিয়ে যায়। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পরিবর্তে দায়িত্বশীলদের অসংবেদনশীল মন্তব্য জনমনে হতাশা সৃষ্টি করছে।
কানাডাপ্রবাসী সমাজসেবক শমসের আলী হেলাল বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে।
নারী উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট সুলতানা রাজিয়া নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে সমাধানের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী শাপলা আক্তার বলেন, বর্ষাকালে রাস্তা খুঁড়ে উন্নয়নকাজ না করে শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পিতভাবে এসব কাজ সম্পন্ন করা উচিত।
ছাত্র প্রতিনিধি মফিদুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এবং সাধারণ মানুষ কর্মস্থলে যেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কর্মজীবী নারী শাহিনুর আক্তার শিলা বলেন, রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে জলাবদ্ধতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতাই দায়ী।
গণশুনানিতে আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী শাজাহান ব্যাপারী, উদ্যোক্তা বারকাজ নাসির আহমদ, নারী সংগঠক আমেনা বেগম, ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন শিবলু, সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দা মোহসীনুল হক চৌধুরী এবং বাসচালক মনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।