ইউনূসকে ভুলতে পারছেন না হাসিনা, নেপথ্যে কি?

আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ১০:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ১০:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন ২৬ মাস আগে। ইউনূস সরকার বিদায় নিয়েছে আট মাস আগে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনীতিতে যেহেতু আসেননি, আবার বয়সও নেই, তাই ভবিষ্যতে তাঁর ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নেই। সুতরাং ড. ইউনূস আর শেখ হাসিনা একে অপরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রু নন। তাহলে শেখ হাসিনা কেন এখনো ইউনূসকে ভুলতে পারেন না? হাসিনার সমর্থকেরা কেন এখনো ইউনূসকে শত্রু মনে করেন?

এর একটাই কারণ—লেখকের মতে, জুলাইয়ের ঘটনাবলি জাতিসংঘকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এমন একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব মুছে যেতে কত বছর বা কত দশক লাগবে, তা কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন।

এ কথা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি রয়েছে। জুলাইয়ের প্রাণহানির বিষয়ে ইউনূস সরকার পুলিশ বা বিচার বিভাগ—যে সংস্থাকেই দিয়ে তদন্ত করাত, তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। সহজেই বলা যেত, এসব তদন্ত মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ।

কিন্তু জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর কোনো দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান নয়। তারা তদন্ত করে বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামরিক পর্যায়ের অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে এসব ঘটনার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিবেদনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

লেখকের মতে, এই একটি প্রতিবেদনের কারণে বিশ্বের কোনো দেশই শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের পাশে দাঁড়ায়নি, ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেছে। ভবিষ্যতেও তারা তা করবে। কারণ, মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা তাদের নীতিগত অবস্থান। তারা শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচারপ্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা বলছে এবং বলবে। তবে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টি তারাও সমর্থন করেছে বলে লেখকের দাবি।

লেখকের ভাষ্য, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে কোনো দেশই শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ক্ষমতাচ্যুত করা বা তাঁদের বিচার করার বিষয়ে আপত্তি জানায়নি। নির্বাচন নিয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো আপত্তি ওঠেনি। কোনো কোনো দেশের একজন বা দুজন সংসদ সদস্য কিংবা সাবেক সংসদ সদস্যের বিবৃতি হয়তো লবিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব, কিন্তু কোনো সরকারই হাসিনার সমর্থনে প্রকাশ্যে কথা বলবে না—এমনটাই মনে করেন লেখক। এর পেছনে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

অন্যদিকে, হাসিনা সরকারের আমলে ড. ইউনূসের বিচার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম, বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন এবং নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দেশ বক্তব্য দিয়েছে ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘকে লেখক তুলনামূলকভাবে দুর্বল সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করলেও মনে করেন, সংস্থাটি কোনো বিষয়ে অবস্থান নিলে তার নৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইসরায়েলের প্রসঙ্গ টেনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে ইসরায়েল শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্ত ও প্রতিবেদন দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁর মত।

লেখায় দাবি করা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সঙ্গে গণহত্যার অভিযোগ যুক্ত করার প্রস্তাবও এসেছে বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে লেখকের প্রশ্ন, এত শক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেদনটির আন্তর্জাতিক প্রভাব কি তারা ঠেকাতে পেরেছে? তাঁর মতে, নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে রয়েছেন। তাঁকে হয়তো গ্রেপ্তার করা হবে না, কিন্তু আদালতের সদস্য দেশগুলোতে তাঁর ভ্রমণ সীমিত হতে পারে।

লেখকের আরও দাবি, প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইউরোপের কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে, ইসরায়েলের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং দেশটি কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে।

লেখকের যুক্তি, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী নয়। তাই জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাঁরা পার পাবেন না। বিষয়টি তাঁরা বোঝেন বলেই প্রতিবেদন সংশোধনের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন বলে লেখক উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, সেই আবেদন দ্রুত খারিজ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে লেখকের উপসংহার, ড. ইউনূসের প্রতি শেখ হাসিনা ও তাঁর সমর্থকদের ক্ষোভের মূল কারণ জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন। তাঁর মতে, নানা পদক্ষেপ নিয়ে এই ক্ষোভের প্রতিকার হবে না; বরং পথ হলো, অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০