আজ দেবীর বোধন, দুর্গোৎসব শুরু কাল

আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৬ ১০:২২:৩৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৬ ১০:২২:৩৩ পূর্বাহ্ন

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। এদিন মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গার বোধন ও পূজা-অর্চনা।

বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে, শনি ও রোববার পালিত হবে মহাসপ্তমী। এ তিথিতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজার প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হবে। দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে স্নান করানোর মধ্য দিয়ে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সোমবার পালিত হবে মহাঅষ্টমী। এদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন সন্ধিপূজা। অষ্টমী তিথির শেষ ও নবমী তিথির শুরুর সন্ধিক্ষণে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবের শেষ পর্যায় শুরু হবে। এদিন দেবীকে ভোগ নিবেদন করবেন পূজারিরা। পরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব। এর মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, জগতের কল্যাণ কামনায় এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসবেন দেবী দুর্গা। পূজা শেষে নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন তিনি।

দুর্গোৎসবের আর মাত্র একদিন বাকি। এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কারিগররা। পূজার আগমুহূর্তে প্রতিমায় রং করা, সাজসজ্জা ও অন্যান্য কাজ দ্রুত শেষ করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করেছে সরকার। সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবারের ছুটির সঙ্গে এ ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি উপভোগ করবেন সংশ্লিষ্টরা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে দুর্গোৎসব গভীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে। এ উৎসব অসুররাজ মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়কে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুর এমন এক বর লাভ করেছিলেন, যার ফলে কোনো পুরুষের হাতে তাঁর মৃত্যু হওয়া অসম্ভব ছিল। এ ক্ষমতার বলে তিনি দেবতাদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন। তখন দেবতারা তাঁদের সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে সৃষ্টি করেন। দেবী দুর্গা মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে পরাজিত ও বধ করেন।

গত ১০ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করেছেন। মহালয়া দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা বয়ে আনে।

দুর্গাপূজা শুধু একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য তুলে ধরে।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা, বর্ধিত সরকারি অনুদান এবং ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০