তুরস্কে কয়েক ঘণ্টার একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে পালটে দিয়েছে গোটা দেশকে

আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৯:২৩:০০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৯:২৩:০০ অপরাহ্ন

এটি ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাবের একটি বিশদ বিবরণ। সংক্ষেপে মূল বিষয়গুলো হলো—

অভ্যুত্থানচেষ্টা কীভাবে ঘটেছিল

  • ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই রাতে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে।
  • ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখলের চেষ্টা হয়।
  • সংসদ ভবনেও হামলা চালানো হয়, যা তুরস্কের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
  • প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনগণকে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
  • কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়।
  • সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২৫৩ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

  • সরকার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন ও তার নেটওয়ার্ককে দায়ী করে। গুলেন জীবিত থাকাকালে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
  • জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল।
  • হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তা, বিচারক, পুলিশ, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার, বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত করা হয়।
  • বহু স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক পরিবর্তন

  • ২০১৭ সালের গণভোটের মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাহী রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয়।
  • প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত হয়।
  • প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

বিতর্ক

সমালোচকদের মতে—

  • এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী মত দমন করা হয়েছে।
  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দুর্বল হয়েছে।
  • সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হয়েছে।
  • রাজনৈতিক ক্ষমতা অতিরিক্তভাবে প্রেসিডেন্টের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

অন্যদিকে সরকার বলছে—

  • এসব পদক্ষেপ রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতের অভ্যুত্থান ও নিরাপত্তা হুমকি থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
  • এতে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর ভূমিকার পরিবর্তন

  • সেনাবাহিনীর ওপর বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হয়।
  • সামরিক একাডেমি ও বিভিন্ন কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়।
  • অনেক বিশ্লেষকের মতে, এর ফলে তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের ঐতিহ্য কার্যত শেষ হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব

  • সিরিয়ায় সীমান্তপারের সামরিক অভিযান বাড়ানো হয়।
  • রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়।
  • ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়াও কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন

২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টা মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হলেও, এর প্রভাব তুরস্কের রাজনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, সামরিক কাঠামো এবং বৈদেশিক নীতিতে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন এনে দেয়। সমর্থকদের কাছে এটি রাষ্ট্র রক্ষার একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা, আর সমালোচকদের মতে এটি তুরস্কে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০