পাঁচ গুলি লুৎফুজ্জামানের শরীর ভেদ করে বের হয়ে যায়, আটকে ছিল এক

আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৯:১৩:৫৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৯:১৩:৫৫ অপরাহ্ন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের শরীরে মোট ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অপর একটি গুলি তাঁর পিঠের ভেতরে আটকে ছিল।

শুক্রবার নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় আটকে থাকা বুলেটটি বের করা হয়। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহত সাংবাদিক আলিফের বুকের অংশে তিনটি গুলি লাগে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। অপরটি পিঠের মাংসপেশির ভেতরে আটকে ছিল।

অন্য তিনটি গুলির আঘাত সম্পর্কে চিকিৎসক জানান, একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। আরেকটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া ঘেঁষে চলে যায়। অন্য গুলিটি ডান কাঁধের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে যায়।

ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, শরীরে গুলির প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, আলিফকে একেবারে সামনে থেকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল এলাকার তেলনজিয়া গ্রামে একটি চায়ের দোকানের সামনে আলিফকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালায় দুই অস্ত্রধারী যুবক।

লুৎফুজ্জামান আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি ‘চ্যানেল রূপসী বাংলার’ নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে সীমান্ত এলাকার মাদক, চোরাচালান, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, আলিফের মাথা, ঘাড় ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির স্পষ্ট ক্ষত রয়েছে। রাতে গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলিফকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হামলাকারীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে আরেকটি প্রাণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন আলিফ। ওই সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর এক সহকর্মীকেও অস্ত্রের মুখে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০