অ্যাপলের আসন্ন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যাটারি পারফরম্যান্সের দিক থেকে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের চমকে দিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে একাধিক প্রযুক্তি প্রতিবেদনে। যদিও ডিভাইসটির ব্যাটারির ধারণক্ষমতা তুলনামূলক কম হতে পারে, তবুও উন্নত প্রসেসর, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন এবং নতুন থার্মাল ডিজাইনের কারণে এটি ৭,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সমতুল্য ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক আইস ইউনিভার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ই-সিম সংস্করণে ৫,৫৬৭ এমএএইচ এবং নন ই-সিম সংস্করণে ৫,৩৯১ এমএএইচ ব্যাটারি থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাটারির ধারণক্ষমতায় বড় পরিবর্তন না এনে বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী নতুন প্রসেসর, উন্নত সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন এবং কার্যকর তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে অ্যাপল।
এতে আরও দাবি করা হয়েছে, অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী হতে পারে। পাশাপাশি আইওএস ২৭-এ ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায়ও উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসতে পারে।
নতুন থার্মাল সিস্টেম ফোনের অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় স্ক্রিন চালু রেখে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ব্যাটারির আকারই কোনো স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ নির্ধারণ করে না। উন্নত প্রসেসর, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন এবং কার্যকর তাপ নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়ে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারির ফোনও বড় ব্যাটারিযুক্ত ডিভাইসের সমান বা কখনো কখনো আরও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।
এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কয়েকটি স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করলেও অ্যাপল এখনো প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলিকন-কার্বন ব্যাটারিতে একই আকারে বেশি শক্তি সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও প্রযুক্তিটি এখনো পুরোপুরি পরিণত নয়। চার্জিংয়ের সময় ব্যাটারির প্রসারণসহ কিছু প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। তাই প্রযুক্তিটি আরও পরিণত হওয়ার পর ভবিষ্যতের আইফোনে এ ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করতে পারে অ্যাপল।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ব্যাটারি ক্ষমতা, এ২০ প্রো চিপ, আইওএস ২৭-এর উন্নতি এবং পারফরম্যান্স–সংক্রান্ত সব তথ্যই এখন পর্যন্ত ফাঁস হওয়া তথ্য ও বিশ্লেষকদের দাবির ওপর ভিত্তি করে। অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি। ফলে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স বাজারে আসার পর বাস্তব পরীক্ষার মাধ্যমেই এর প্রকৃত ব্যাটারি পারফরম্যান্স জানা যাবে।